Header Ads

সত্য বলতে লজ্জা নেই

পুরুষ যেন নারীর প্রতি আকর্ষিত হয়, এভাবেই নারীকে সৃজন করা হয়েছে। নারীদেহের গড়নের প্রতি পুরুষের দুর্বলতা আছে। পুরুষের গড়নের প্রতিও নারীর দুর্বলতা আছে, এটা সিস্টেম। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক যে আপনাকে একটা মেয়ে আঁকতে দিলে আপনি শরীরের বাকি অংশের চেয়ে কোমর সরু করে আঁকবেন। বয়ঃসন্ধিকালে নারীর ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোন বেরিয়ে পুরো দেহে নানান জায়গায় প্রভাব ফেলা শুরু করে। ফলে কন্ঠস্বর চিকন হয়, ত্বকের নিচে চর্বিস্তর জমে শরীর নরম-মোলায়েম হয়, ত্বক মসৃণ হয়, স্তন-নিতম্ব-উরুতে অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়ে ‘নারীসুলভ’ আকার (Feminine Contour) চলে আসে। এবং এই উঁচুনিচু জিওগ্রাফি পুরুষকে আকর্ষণ করে, তাদের কাছে ভালো লাগে।গবেষকরা বলেছেন, চেহারার সৌন্দর্যের চেয়ে পুরুষ বেশি গুরুত্ব দেয় ফিগারকে। বিশেষ করে ‘বালুঘড়ি’র মত গড়ন (hourglass figures)। এবং এই অনুভূতি হতে পুরুষের মগজ সময় নেয় সেকেন্ডেরও কম সময়। মানে সেকেন্ডের কম সময়ে [ড] একজন পুরুষ একটা মেয়ের ফিগার দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, মেয়েটি আকর্ষণীয় কি না। তাদের মতে, মেয়েদের নিতম্ব ও কোমরের অনুপাত (waist-to-hip ratio) ০.৭ হলে সেটা হল সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিগার। এবং এই অনুপাত নারীর সুস্থতা ও উর্বরতার জন্যও ভাল। বিভিন্ন কালচারে এই অনুপাত ০.৬-০.৮ এর মধ্যে [1]

 

বালুঘড়ি

 

New Zealand-এর Victoria University of Wellington –এর অধীন School of Biological Sciences এর নৃতাত্ত্বিক Dr Barnaby Dixson এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয় Archives of Sexual Behaviour -এর 2011তে ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় (শিরোনাম: Eye-tracking of men’s preferences for waist-to-hip ratio and breast size of women.) [2]। একই নারীর ছবিতে বুক, কোমর ও নিতম্বের মাপকে বাড়িয়ে কমিয়ে ভলান্টিয়ারদের দেখানো হয়। ইনফ্রারেড ক্যামেরার দ্বারা তাদের চোখ কোথায় কতবার আটকাচ্ছে দেখা হয় (numbers of visual fixations), কতক্ষণ কোথায় আটকে আছে তা দেখা হয় (dwell times), প্রথমবারেই কোথায় আটকাচ্ছে (initial fixations) তাও দেখা হয়। তারা পেলেন, সব পুরুষের চোখ প্রথমেই নারীর যে অঙ্গে আটকায় তা হল বুক আর কোমর। সবচেয়ে বেশি সময় আটকে থাকেও এই দুই জায়গায়। তবে বার বার তাকিয়েছে এবং বেশিক্ষণ ধরে তাকিয়েছে বুকের দিকে, কোমর-হিপের মাপ যাই হোক। আর মার্কিং করার সময় বেশি আকর্ষণীয় হিসেবে মার্ক দিয়েছে চিকন কোমর ও ‘বালুঘড়ি’ শেপের ফিগারকে, স্তনের মাপ যাই হোক। ডেইলিমেইল [3] ও টেলিগ্রাফ পত্রিকায়ও এসেছে গবেষণাটি [4]। তাহলে বুঝা গেল, পুরুষের সব আকর্ষণের কেন্দ্র তিনটা জায়গা [ঢ]। বয়সন্ধিকালে ইস্ট্রোজেন হরমোনের কারণে যে নারীসুলভ প্যাটার্নে চর্বি জমে (Female distribution of fat) তার ফলেই তৈরি হয় এই নারীসুলভ গড়ন। কেউ যদি অধিকাংশ পুরুষের দৃষ্টির উদ্দীপক হতে না চায়, অলক্ষ্যে থাকতে চায় তাহলে এমন পোশাক পরিধান করতে হবে যাতে এই টিপিক্যাল ‘বালিঘড়ি’ শেপ অস্পষ্ট হয়ে যায়, নারীদেহের উঁচুনিচু যেন বুঝা না যায়। এবার ৭ জন মেয়েকে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়। তাদের ওজন না কমিয়ে কেবল কোমরের চর্বি কেটে নিতম্বে লাগিয়ে দেয়া হয়, সুন্দর শেপ দেয়ার জন্য। এবার এই মেয়েগুলোর সার্জারির আগের ছবি আর সার্জারির পরের ছবি দেখানো হয় বছর পঁচিশেক বয়েসের ১৪ টা ছেলেকে। তাদের ব্রেইন স্ক্যান করে পাওয়া গেল কী জানেন? আমাদের ব্রেইনে ‘Reward Center’ নামে একটা কেন্দ্র আছে। দেখে নেন, ১ নং জায়গাটার নাম VTA (Ventral Tegmental Area), ২ নং জায়গাটার নাম (nucleus accumbens) , আর ৩ নং জায়গাটা হল ফ্রন্টাল কর্টেক্স যা আমাদের ব্যক্তিত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। এই তীর চিহ্নিত রাস্তার নাম ‘Dopamin Pathway’। এই জায়গাগুলোতে যে নার্ভকোষ থাকে তারা ‘ডোপামিন’ নামক নিউরোহরমোন ক্ষরণ করে ৩ নং জায়গায় উত্তেজনা তৈরি করে।

রিওয়ার্ড সেন্টার

আর ২ নং জায়গাটা আসক্তি সৃষ্টির জায়গা (highly sensitive to rewards and is the seat of addictive behavior)। আমাদের মগজ সব ধরনের আনন্দের অনুভূতি এভাবে তৈরি করে, সেটা বেতন-বোনাস-লটারী জেতাই হোক, যৌনমিলন হোক, কিংবা হোক নান্নার কাচ্চি, অথবা নেশাদ্রব্য [5]। তবে ড্রাগ এ এলাকায় ডোপামিনের বন্যা বইয়ে দেয়, ফলে এত আনন্দ হয় যেটা আসক্ত লোক আবার পেতে চায়। এভাবে নেশা বা আসক্তি হয় [6]। এই ১৪ টা ছেলের ব্রেইন স্ক্যান করে পাওয়া গেল, সার্জারি করার পরের ছবি দেখে (এবং কোমর নিতম্বের অনুপাত ০.৭ এর কাছাকাছি) ওদের এই এলাকাগুলো উত্তেজিত হচ্ছে। [ণ] সুতরাং, পর্নোগ্রাফি একটা নেশা। (প্রমাণিত) আমেরিকার Georgia রাজ্যে Gwinnett College-এর Neuroscientist Steven M. Platek সাহেবের এই গবেষণা প্রকাশিত হয় PLoS One জার্নালে 5 ফেব্রুয়ারি, 2010 সংখ্যায় Optimal waist-to-hip ratios in women activate neural reward centers in men শিরোনামে [7]। তিনি Livescience ম্যাগাজিনকে বলেন, পর্নোআসক্তি এবং আসক্ত লোকের পর্নো ছাড়া যে erectile dysfunction (উত্থানরহিত) হয় তার একটা ক্লু হতে পারে এই গবেষণাটি [8]। আমরা দেখলাম, নারীর ফিগার দেখাটা নেশার মত, স্রেফ দেখাটাই [ড+ণ]। সেক্স উত্তেজিত করবে Reward Center-কে এটা তো খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু স্রেফ দেখাটাও একজন পুরুষে ড্রাগের মত অনুভূতি তৈরি করছে, বিষয়টা একটূ লোমহর্ষক না? এবং কারো ফিগার মূল্যায়ন হয়ে এই অনুভূতি তৈরি হতে সময় নিচ্ছে সেকেন্ডেরও কম সময়, এমন না যে একটানা তাকিয়ে দেখার পর এমন হচ্ছে। এবার এর সাথে আপনি মিলিয়ে নিন [ট] University of Arizona-র প্রফেসর Mary P. Koss- এর কথাটা, ধর্ষণ ব্যাপারটা অনেকটা মাত্রা-নির্ভর (Dose). [9] তাহলে আমাদের এই ফিটিং ফ্যাশন, স্বচ্ছ ওড়না, ফিতাওয়ালা বোরকা, উরুর অবয়ব প্রকাশ করে দেয়া লেগিংস কী এক ফোঁটাও দায়ী নয়? একটুও দায়ী নয়? এখন আপনিই হিসেব করুন, আপনি কতজনের কত নম্বর ডোজ হয়েছেন? আপনি কতজনের নেশাদ্রব্য হয়েছেন এ যাবত? আপনার Optimal waist-to-hip ratio কত অগণিত পুরুষের neural reward center-কে ডোপামিনে ভাসিয়েছে? ভিকটিমের পোশাক হয়ত সরাসরি দায়ী নয়, তবে আর যে হাজার হাজার নারী ধর্ষকটার সামনে দিয়ে হেঁটেছে বেসামালভাবে, তাদের ফিটিং স্বচ্ছ পোশাকের দায়, প্রকাশমান দেহাবয়বের দায় তো এড়ানো যাবে না। গবেষণাগুলোর ইঙ্গিত তো তাই বলছে, না কি?

নয়নের আলো

আমরা এই পর্যায়ে একটু জেনে নেব, আমরা কীভাবে দেখি। যেমন ধরেন, একটা লাল আপেল। ঘরটা অন্ধকার, আপেলের উপর কোন আলো পড়ছে না, তাই অন্ধকার ঘরে আপনি আপেলটা দেখতে পাচ্ছেন না। এবার লাইট জ্বালালেন। ঝলমল করে উঠল ঘর। আলোর কিছুটা আপেলের উপরও পড়ল। আপনারা হয়ত জেনে থাকবেন, সাদা আলো আসলে সাদা না, ৭ রঙা আলোর মিশেল।
সাত রঙ
বেনীআসহকলা- বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। এই ৭ রঙ মিলেমিশে হয় সাদা রঙের আলো। এই লাল আপেলে যখন আলোটা পড়ল, আপেলটা সবগুলো রঙকে শুষে নিল, শুধু লাল আলোটাকে ফিরিয়ে দিল, প্রতিফলন করে দিল। এই ফিরিয়ে দেয়া লাল আলোটুকু আপনার চোখের মণির ভিতর দিয়ে চলে গেল চোখের পিছনে। সেখানে কিছু স্পেশাল কোষ আছে যারা আলো পড়লে বিদ্যুত তৈরি করে। লাল আলো গিয়ে ওদেরকে উত্তেজিত করল, তারা বিদ্যুত তৈরি করে মাথার পিছনে পাঠাল। আর আপনার আপেলাকারের লাল কিছু একটা দেখার অনুভূতি হল। বিঃদ্রঃ কালো কিন্তু কোন আলো না, কোন রঙের আলো না থাকলে কালো দেখা যায়। কালো জিনিস সব রঙকে শুষে নেয়। তাই কালো দেখায়।
লাল কীভাবে দেখি
চোখের পিছনে যে জায়গায় আলো গিয়ে পড়ে, সেখানে একটা বিন্দু আছে যেখানে স্পেশাল কোষগুলো ঘনভাবে থাকে। জায়গাটার নাম ‘ফোভিয়া সেন্ট্রালিস’। যখন কোন বস্তুর আলো গিয়ে এখানে পড়ে তখন সেটা স্পষ্ট দেখা যায়। মানে বস্তুটা ফোকাস হয়।
ফোভিয়া সেন্ট্রালিস
আপনি আপেলটা দেখছেন, আপেলের পাশে জগ-গ্লাস-অন্যান্য জিনিসও আপনি দেখছেন, কিন্তু আপেলটাকে বাকিগুলোর চেয়ে একটু বেশি দেখছেন। মানে আপেলের আলোগুলো গিয়ে জায়গামত পড়েছে, ঐ বিন্দুতে। ব্যাপারটা এমন—
ফোকাস ননফোকাস
আর সামনে তাকালে আপনি পাশের অনেককিছুও দেখেন কিন্তু। ফোকাস ছাড়া বাকি যতদূর মাথা স্থির রেখে আপনার নজরে আসে, পুরোটাকে বলে দৃষ্টিক্ষেত্র বা Visual Field. এই ফিল্ডে যা থাকবে, সব আপনার নজরে আছে, ফিল্ডের বাইরে আমরা দেখি না।
ভিজুয়াল ফিল্ড
সাধারণত কোন একটা জিনিস ফোকাস করলে আমরা আরেকটা ফোকাসে যাই যখন আমাদের ভিজুয়াল ফিল্ডে কোন কিছু আমাদের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে। যেমন ফিল্ডের মধ্যে কোনকিছু নড়ে উঠল [ত] বা উজ্জ্বল হয়ে উঠল [থ], তখন আমরা আগের ফোকাস চেঞ্জ করে ঐ আন্দোলিত বা উজ্জ্বল বস্তুকে ফোকাস করি। নিজে নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন।

উদ্দীপকের সমাধান ১:

রাস্তায় যে হাজারো পুরুষ ঘুরে বেড়ায়, তাদের প্রত্যেকের ইউনিক মনোজগতকে জানা এমনকি অনুমান করাও অসম্ভব। আলোচনার আগে আমি আপনাদের স্মরণ করার অনুরোধ করছি ‘সিম্বোলিজম’ অধ্যায়টা। কত কিছু আমাদের যৌন-উদ্দীপনার কেন্দ্র হতে পারে। প্রয়োজনে আরেকবার পড়ে নেয়া যেতে পারে। একটা মেয়ের শরীরের প্রতিটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আলাদাভাবে ও সামষ্টিকভাবে সিম্বলিক হতে পারে। আপনার কলিগ বা সহপাঠীদের মাঝে এমন কেউ আছে কি না যে আপনার হাতের সৌন্দর্য নিয়ে ফ্যান্টাসিতে আছে, তা আপনি আসলেই জানেন না। কেউ চুল নিয়ে, কেউ চোখ নিয়ে, বা কেউ পুরো আপনাকেই নিয়েই অন্ধকুঠূরিতে কোন পর্যায়ে আছে, তা জানার কোন উপায়ই নেই। তাই আপনি যদি যেকোন মানসিকতার পুরুষের কাছে উদ্দীপক না হতে চান তাহলে সর্বপ্রথম [ঢ] পুরুষের আকর্ষণের কেন্দ্রীয় তিন অংশ আপনাকে ঢেকে ফেলতে হবে, ‘বালিঘড়ি’ শেপকে ও waist-to-hip ratio-কে অস্পষ্ট করে দিতে হবে। এমন একটা পোষাক গায়ে চড়াতে হবে যাতে কোন উঁচুনিচু বুঝা না যায়। কুরআন আমাদের তা-ই জানাচ্ছে:
“হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।” (সূরা আল আহযাব: ৫৯)
“বিশ্বাসী নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি কে নত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যা সাধারণতঃ প্রকাশ তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের মাথার কাপড় দ্বারা বক্ষস্থল আবৃত রাখে। এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগন, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”(সূরা আন নূরঃ ৩১)
এখন আপনি কেমন আবরণ দ্বারা নিজেকে আবৃত করবেন। আচ্ছাদন কেমন হলে তা আপনাকে উদ্দীপকের ভূমিকা নেয়া থেকে সুরক্ষা দেবে। এখন আমরা যে আলোচনায় যাচ্ছি, এর সাথে ফিকহের কোন সম্পর্ক নেই। এই আলোচনা গ্রহণ বা বর্জন আপনার নিজের ইচ্ছে। ইসলাম আমাদের নিচের সিদ্ধান্তের অনেক কিছুরই অনুমোদন দেয়, নিষেধ করে না। আমরা আমাদের এতক্ষণের বৈজ্ঞানিক আলোচনার রেশ ধরে যে ফলাফলে পৌঁছবো সেগুলোর সবই অননুমোদিত তা কিন্তু নয়। আমরা আমাদের আলোচনা যেখানে আমাদের নিয়ে যায় সেখানে চলে যাব।
১. বোরকা অনুজ্জ্বল রঙের হবে। কালো বেস্ট। কারণ কালো রঙ আলোর পুরোটুকু শুষে নেয়। তাই কালো বস্তু থেকে দর্শকের চোখে আলো আসে না। নজর কাড়ে না। কালো না হলেও কালো জাতীয় (নেভী ব্লু, ধূসর)। মোটকথা ম্যাদামারা রঙের হওয়া চাই। উজ্জ্বল রঙ হলুদ-লাল-নীল-গোলাপী রঙ ভিজুয়াল ফিল্ডে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। এমন রঙের বোরকা ‘বোরকার উদ্দেশ্য’ পূরণ করে না। [ত]
২. প্রচলিত বোরকার কাপড় একটা আছে সিল্কের মত চকচকে। কালো হলেও চকচকে জিনিস আলো প্রতিফলন করে। তাই, ভিজুয়াল ফিল্ডে যেকোন চকচকে বস্তু নজর কাড়ে। এমন কাপড়ের বোরকায়ও উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। [ত]
৩. একটা কাপড়ের নাম বিএমডব্লিউ, হালে বেশ জনপ্রিয়। এই কাপড়ের সমস্যা হল বেশি আন্দোলিত হয়। ভিজুয়াল ফিল্ডে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি নড়াচড়ার দিকে দৃষ্টি চলে যায়। ফলে উদ্দীপকতা কমাতে বা নিজেকে দৃষ্টির অলক্ষ্যে রাখতে এজাতীয় বোরকাও অনুপযোগী। [থ]
৪. বোরকার উদ্দেশ্য হল, আপনার নিচের সুন্দর পোশাক, যেটা আপনার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণে- সেটা ঢাকা। যাতে আপনি কারো দৃষ্টি আকর্ষক না হন। যেহেতু কে আপনাকে দেখে কি ভাবছে, কী ডোজ নিচ্ছে, কী কল্পনা করছে আপনি জানেন না। ডিজাইনওয়ালা আর নানান ফ্যাশনেবল বোরকা তো সেই সৌন্দর্য্যবর্ধকই হয়ে গেল। তাহলে শুধু শুধু ডবল পোশাক পরে কী লাভ হল? কেউ যদি আপনাকে বলে- বাহ এই বোরকায় তো তোমাকে দারুণ মানিয়েছে। বা, চমৎকার লাগছে তোমাকে। তাহলে সেই বোরকা পরা অনর্থক। কারণ আপনি তো সুন্দর লাগার জন্য বোরকা পরছেন না, বরং সৌন্দর্য্য ঢাকার জন্যই সেটা পরার কথা।
৫. অর্ধসচ্ছ শিফন/জর্জেট জাতীয় কাপড়ের বোরকা পরার চেয়ে না পরাই তো ভাল। শুধু শুধু গরমে দুই স্তর সিনথেটিক কাপড় পরার কী দরকার। পর্দার উদ্দেশ্যও পুরা হল না, আবার গরমে কষ্টও হল। আর মানুষের স্বভাব হল কৌতূহল। যা স্পষ্ট দেখা যায়, তার চেয়ে যা আবছা দেখা যায়, তার প্রতি কৌতূহল বেশি কাজ করে। ফলে অর্ধস্বচ্ছ বোরকা আপনাকে আরও বেশি নজর আহ্বানকারী করে তুলবে।
৬. বোরকার কোমরের কাছে ফিতা যদি বেঁধে নেন, তবে বোরকা পরার উদ্দেশ্য ব্যাহত হল। বোরকার উদ্দেশ্য ছিল আপনার দেহকাঠামোকে অস্পষ্ট করে দেয়া। ফিতা বেঁধে কোমরের মাপকে প্রকাশ করে সেই গড়নকে আপনি স্পষ্ট করে দিলেন।
৭. হাল আমলের বোরকার ফ্যাশন হল ঘের অনেক বেশি রাখে গাউনের মত। সেদিন এক ফেসবুক পেইজ যারা দাবি করে যে তারা শারঈ বোরকা বিক্রি করেন। দেখলাম লিখেছে, “ঘের অনেক বেশি…You will feel like a princess”। মানে হল, রাজকন্যারা যেমন গাউন পরে সেরকম। বেশ, নিজেকে নিজে রাজকন্যা মনে হলে তো সমস্যা নেই। কিন্তু রাস্তার লোকে রাজকন্যা মনে করে চেয়ে থাকলে তো সমস্যা। পর্দার উদ্দেশ্য পুরা হল না। আর অতিরিক্ত কাপড় থাকলে তা হাঁটার সময় আন্দোলিত হবে বেশি [থ], ফলে ফোকাস টানবে বেশি।
৮. আর একটা ফেব্রিক সম্পর্কে বলে আমাদের এই আলোচনা শেষ করব, যেটা এখন ব্যাপক জনপ্রিয়। লন কাপড় পরতে আরামদায়ক হলেও শরীরের সাথে লেপ্টে থাকে বেশি। ফলে বাইরে থেকে শরীরের অবয়ব স্পষ্ট ফুটে ওঠে। যদিও আপনার পোশাকটা ফিটিং না, বা স্বচ্ছ না। আপনি ভাবছেন সব তো ঢাকাই, আসলে কাপড় লেপ্টে থেকে সব অবয়ব বুঝিয়ে দিচ্ছে।
আবু ইয়াযীদ মুযানী রাহ. বলেন, হযরত ওমর রা. মহিলাদেরকে কাবাতী (মিসরে প্রস্ত্ততকৃত এক ধরনের সাদা কাপড়) পরতে নিষেধ করতেন। লোকেরা বলল, এই কাপড়ে তো ত্বক দেখা যায় না। তিনি বললেন, ত্বক দেখা না গেলেও দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুটে ওঠে।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২৫২৮৮
তাহলে কেমন বোরকা পরলে উদ্দীপক হিসেবে আমার ভূমিকা মিনিমাম হবে?
১. নিকাবসহ কালো বা কালো জাতীয় রঙের
২. সুতি ধরনের কাপড় যা অতিরিক্ত দুলবে না, লেপ্টে থাকবে না। বরং কিছুটা ফুলে থাকবে, বডি শেপকে অস্পষ্ট করে দেবে। কাপড় সুতি হলে সিনথেটিক এসব কাপড়ের চেয়ে আরামও পাবেন বেশি। আরেকটা ব্যাপার আছে। সুতি কাপড় ইস্ত্রি নষ্ট হয়ে পরিপাটিভাব থাকে না, ফলে আপনার দিকে কেউ লক্ষ্যই করবে না, চোখ পড়লেও অনীহাভরে সরিয়ে নেবে। বোরকা পরার মূল উদ্দেশ্য সবচেয়ে সুন্দরভাবে পূরণ হবে।

রেফারেন্স

[1] চীনে ও তানজানিয়ায় ০.৬, ইন্ডিয়ান ও ককেশীয় আমেরিকানদের ০.৭ ও ক্যামেরুনে ০.৮ পাওয়া গেছে। Dixson, A.F. (2012) Primate Sexuality: Comparative Studies of the Prosimians, Monkeys, Apes and Human Beings (Second Edition). Oxford: Oxford University Press. এর বরাতে https://www.psychologytoday.com/us/blog/how-we-do-it/201507/waists-hips-and-the-sexy-hourglass-shape
[5] Harvard Mental Health Letter, How addiction hijacks the brain https://www.health.harvard.edu/newsletter_article/how-addiction-hijacks-the-brain
[6] The Brain on Drugs: From Reward to Addiction, Nora D.Volkow ও Marisela Morales, National Institute on Drug Abuse, National Institutes of Health, Bethesda, MD 20892, USA প্রকাশিত হয় জার্নাল Cell (Volume 162, Issue 4, 13 August 2015, Pages 712-725) https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0092867415009629
[7] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/20140088 https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC2918777/ (Curvaceous female bodies activate neural reward centers in men)

The post সত্য বলতে লজ্জা নেই appeared first on ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া.



from ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া http://bit.ly/2Re80AY

No comments

Powered by Blogger.