Header Ads

মুসলিমদের মাবুদ কে?

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
মুসলিমদের মাবুদ কে?
শিরোনাম: মুসলিমদের মাবুদ কে?
মুফতী: মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ
অনুবাদক: সানাউল্লাহ নজির আহমদ
সম্পাদক: আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
প্রকাশনায়: www.islamqa.info - ইসলাম প্রচার
ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ
সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: জনৈক অমুসলিম কিশোরীর
প্রশ্ন: মুসলিমদের মাবুদ কে? এ ফতোয়ায় তার
উত্তর প্রদান করা হয়েছে।
সংযোজন তারিখ: 2013-12-09
শর্ট লিংক: http://IslamHouse.com/450520
মুসলিমদের মাবুদ কে?
প্রশ্ন: জনৈক অমুসলিম কিশোরীর প্রশ্ন:
মুসলিমদের মাবুদ কে?
উত্তর: আল-হামদুলিল্লাহ।
উত্তর দেওয়ার পূর্বে আমাদের অবাকের কথা
জানাচ্ছি যে, অল্প বয়স সত্যেও ইসলামের
প্রতি তোমার গুরুত্বারোপের ফলে হয়তো
আল্লাহ তা‘আলা তোমার সামনে কল্যাণের
মহান দ্বার উন্মুক্ত করে দিবেন, তোমাকে
হিদায়েতের তৌফিক দিবেন, যা তোমার
কল্পনাতেও ছিল না, এ প্রশ্নের সাহসিকতা
তারই প্রমাণ বহন করে।আল্লাহ তা‘আলা
বলেন:
﴿ﺫَٰﻟِﻚَ ﻫُﺪَﻯ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻳَﻬۡﺪِﻱ ﺑِﻪِۦ ﻣَﻦ ﻳَﺸَﺎٓﺀُ ﻣِﻦۡ ﻋِﺒَﺎﺩِﻩِۦۚ ٨٨
﴾ ‏[ ﺍﻻﻧﻌﺎﻡ: ٨٨‏]
“এ হচ্ছে আল্লাহর হিদায়েত, এ দ্বারা তিনি
নিজ বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা
হিদায়েত করেন”। [1] অপর আয়াতে তিনি বলেন:
﴿ﻓَﻤَﻦ ﻳُﺮِﺩِ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻥ ﻳَﻬۡﺪِﻳَﻪُۥ ﻳَﺸۡﺮَﺡۡ ﺻَﺪۡﺭَﻩُۥ ﻟِﻠۡﺈِﺳۡﻠَٰﻢِۖ ١٢٥
﴾ ‏[ ﺍﻻﻧﻌﺎﻡ : ١٢٥‏]
“সুতরাং যাকে আল্লাহ হিদায়েত করতে চান,
ইসলামের জন্য তার বুক উন্মুক্ত করে দেন”। [2]
“মুসলিমরা কার ইবাদত করে” তোমার এ প্রশ্নের
উত্তরে কুরআনুল কারিমের আয়াত পেশ করছি
যা ইসলামের মৌলিক গ্রন্থ, অনুরূপভাবে তার
উত্তর ইসলামের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে প্রদান
করছি, যার শব্দ ও অর্থ তার রবের পক্ষ থেকে
তার নিকট অহি করা হয়েছে।আল্লাহ তা‘আলা
বলেন:
﴿ﺑِﺴۡﻢِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﭐﻟﺮَّﺣۡﻤَٰﻦِ ﭐﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ ١ ﭐﻟۡﺤَﻤۡﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ ﭐﻟۡﻌَٰﻠَﻤِﻴﻦَ ٢
ﭐﻟﺮَّﺣۡﻤَٰﻦِ ﭐﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ ٣ ﻣَٰﻠِﻚِ ﻳَﻮۡﻡِ ﭐﻟﺪِّﻳﻦِ ٤ ﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﻌۡﺒُﺪُ ﻭَﺇِﻳَّﺎﻙَ
ﻧَﺴۡﺘَﻌِﻴﻦُ ٥ ﴾ ‏[ﺍﻟﻔﺎﺗﺤﺔ : ١، ٥‏]
“পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি
সৃষ্টিকুলের রব। দয়াময়, পরম দয়ালু,বিচার
দিবসের মালিক। আপনারই আমরা ইবাদত করি
এবং আপনারই নিকট আমরা সাহায্য চাই”।
[3] অপর আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন:
﴿ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟﻨَّﺎﺱُ ﭐﻋۡﺒُﺪُﻭﺍْ ﺭَﺑَّﻜُﻢُ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢۡ ﻭَﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒۡﻠِﻜُﻢۡ
ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗَﺘَّﻘُﻮﻥَ ٢١ ﴾ ‏[ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢١‏]
“হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর,
যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এবং
তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদেরকে, যাতে
তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর”। [4] অপর
আয়াতে তিনি বলেন:
﴿ﺫَٰﻟِﻜُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺭَﺑُّﻜُﻢۡۖ ﻟَﺎٓ ﺇِﻟَٰﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَۖ ﺧَٰﻠِﻖُ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲۡﺀٖ ﻓَﭑﻋۡﺒُﺪُﻭﻩُۚ ﻭَﻫُﻮَ
ﻋَﻠَﻰٰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲۡﺀٖ ﻭَﻛِﻴﻞٞ ١٠٢ ﴾ ‏[ ﺍﻻﻧﻌﺎﻡ: ١٠٢ ‏]
“তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব। তিনি ছাড়া
কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি প্রতিটি
জিনিসের স্রষ্টা, সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদত
কর। আর তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর
তত্ত্বাবধায়ক”। [5] অপর আয়াতে তিনি বলেন:
﴿ﻭَﻗَﻀَﻰٰ ﺭَﺑُّﻚَ ﺃَﻟَّﺎ ﺗَﻌۡﺒُﺪُﻭٓﺍْ ﺇِﻟَّﺎٓ ﺇِﻳَّﺎﻩُ ﻭَﺑِﭑﻟۡﻮَٰﻟِﺪَﻳۡﻦِ ﺇِﺣۡﺴَٰﻨًﺎۚ ﺇِﻣَّﺎ ﻳَﺒۡﻠُﻐَﻦَّ
ﻋِﻨﺪَﻙَ ﭐﻟۡﻜِﺒَﺮَ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻤَﺎٓ ﺃَﻭۡ ﻛِﻠَﺎﻫُﻤَﺎ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﻘُﻞ ﻟَّﻬُﻤَﺎٓ ﺃُﻑّٖ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻨۡﻬَﺮۡﻫُﻤَﺎ
ﻭَﻗُﻞ ﻟَّﻬُﻤَﺎ ﻗَﻮۡﻟٗﺎ ﻛَﺮِﻳﻤٗﺎ ٢٣ ﴾ ‏[ ﺍﻻﺳﺮﺍﺀ : ٢٣‏]
“আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা
তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং
পিতা-মাতার সাথে সদাচারণ করবে।তাদের
একজন অথবা উভয়ে যদি তোমার নিকট
বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’
বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না।আর
তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল”।
[6] অতএবমুসলিমরাতাঁরই ইবাদতকরে,
যারইবাদতকরেছেসকলনবীওরাসূলগণ।
আল্লাহতা‘আলা বলেন:
﴿ﺃَﻡۡ ﻛُﻨﺘُﻢۡ ﺷُﻬَﺪَﺍٓﺀَ ﺇِﺫۡ ﺣَﻀَﺮَ ﻳَﻌۡﻘُﻮﺏَ ﭐﻟۡﻤَﻮۡﺕُ ﺇِﺫۡ ﻗَﺎﻝَ ﻟِﺒَﻨِﻴﻪِ ﻣَﺎ
ﺗَﻌۡﺒُﺪُﻭﻥَ ﻣِﻦۢ ﺑَﻌۡﺪِﻱۖ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﻧَﻌۡﺒُﺪُ ﺇِﻟَٰﻬَﻚَ ﻭَﺇِﻟَٰﻪَ ﺀَﺍﺑَﺎٓﺋِﻚَ ﺇِﺑۡﺮَٰﻫِۧﻢَ
ﻭَﺇِﺳۡﻤَٰﻌِﻴﻞَ ﻭَﺇِﺳۡﺤَٰﻖَ ﺇِﻟَٰﻬٗﺎ ﻭَٰﺣِﺪٗﺍ ﻭَﻧَﺤۡﻦُ ﻟَﻪُۥ ﻣُﺴۡﻠِﻤُﻮﻥَ ١٣٣
﴾ ‏[ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ١٣٣‏]
“নাকি তোমরা সাক্ষী ছিলে, যখন ইয়াকুবের
নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়েছিল? যখন সে তাদের
সন্তানদেরকে বলল, ‘আমার পর তোমরা কার
ইবাদত করবে’? তারা বলল, ‘আমরা ইবাদত করব
আপনার ইলাহের, আপনার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম,
ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহের, যিনি এক ইলাহ।
আর আমরা তারই অনুগত”। [7]
মুসলিমরা আল্লাহর ইবাদত করে এবং অন্যান্য
ধর্মাবলম্বীদেরকে কেবল এক আল্লাহর ইবাদত
করার প্রতি আহ্বান করে। আল্লাহ তা‘আলা
বলেন:
﴿ﻗُﻞۡ ﻳَٰٓﺄَﻫۡﻞَ ﭐﻟۡﻜِﺘَٰﺐِ ﺗَﻌَﺎﻟَﻮۡﺍْ ﺇِﻟَﻰٰ ﻛَﻠِﻤَﺔٖ ﺳَﻮَﺍٓﺀِۢ ﺑَﻴۡﻨَﻨَﺎ ﻭَﺑَﻴۡﻨَﻜُﻢۡ ﺃَﻟَّﺎ ﻧَﻌۡﺒُﺪَ
ﺇِﻟَّﺎ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻟَﺎ ﻧُﺸۡﺮِﻙَ ﺑِﻪِۦ ﺷَﻴۡٔٗﺎ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺘَّﺨِﺬَ ﺑَﻌۡﻀُﻨَﺎ ﺑَﻌۡﻀًﺎ ﺃَﺭۡﺑَﺎﺑٗﺎ ﻣِّﻦ
ﺩُﻭﻥِ ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﻓَﺈِﻥ ﺗَﻮَﻟَّﻮۡﺍْ ﻓَﻘُﻮﻟُﻮﺍْ ﭐﺷۡﻬَﺪُﻭﺍْ ﺑِﺄَﻧَّﺎ ﻣُﺴۡﻠِﻤُﻮﻥَ ٦٤ ﴾ ‏[ ﺍﻝ
ﻋﻤﺮﺍﻥ : ٦٤‏]
“বল, ‘হে কিতাবিগণ, তোমরা এমন কথার দিকে
আস, যেটি আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে
সমান যে, আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো
ইবাদত না করি। আর তার সাথে কোনো কিছুকে
শরীক না করি এবং আমাদের কেউ কাউকে
আল্লাহ ছাড়া রব হিসাবে গ্রহণ না করি’।
তারপর যদি তারা বিমুখ হয় তবে বল, ‘তোমরা
সাক্ষী থাক যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম”। [8]
আল্লাহ এক, তার কোনো শরীক নেই। নূহ
আলাইহিস সালাম স্বীয় কওমকে তাঁর ইবাদতের
দিকেই আহ্বান করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা
বলেন:
﴿ﻟَﻘَﺪۡ ﺃَﺭۡﺳَﻠۡﻨَﺎ ﻧُﻮﺣًﺎ ﺇِﻟَﻰٰ ﻗَﻮۡﻣِﻪِۦ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻳَٰﻘَﻮۡﻡِ ﭐﻋۡﺒُﺪُﻭﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻣَﺎ ﻟَﻜُﻢ
ﻣِّﻦۡ ﺇِﻟَٰﻪٍ ﻏَﻴۡﺮُﻩُۥٓ ﺇِﻧِّﻲٓ ﺃَﺧَﺎﻑُ ﻋَﻠَﻴۡﻜُﻢۡ ﻋَﺬَﺍﺏَ ﻳَﻮۡﻡٍ ﻋَﻈِﻴﻢٖ ٥٩
﴾ ‏[ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ : ٥٨ ‏]
“আমি তো নূহকে তার কওমের নিকট প্রেরণ
করেছি। অতঃপর সে বলেছে, ‘হে আমার কওম,
তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া
তোমাদের কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। নিশ্চয়
আমি তোমাদের মহাদিনের আযাবের ভয়
করছি”। [9]
ঈসা আলাহিস সালামও এক আল্লাহর ইবাদতের
দিকেই আহ্বান করেছেন, আল্লাহ তা‘আলা
বলেছেন:
﴿ﻟَﻘَﺪۡ ﻛَﻔَﺮَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻗَﺎﻟُﻮٓﺍْ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻫُﻮَ ﭐﻟۡﻤَﺴِﻴﺢُ ﭐﺑۡﻦُ ﻣَﺮۡﻳَﻢَۖ ﻭَﻗَﺎﻝَ
ﭐﻟۡﻤَﺴِﻴﺢُ ﻳَٰﺒَﻨِﻲٓ ﺇِﺳۡﺮَٰٓﺀِﻳﻞَ ﭐﻋۡﺒُﺪُﻭﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺭَﺑِّﻲ ﻭَﺭَﺑَّﻜُﻢۡۖ ﺇِﻧَّﻪُۥ ﻣَﻦ ﻳُﺸۡﺮِﻙۡ
ﺑِﭑﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻘَﺪۡ ﺣَﺮَّﻡَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴۡﻪِ ﭐﻟۡﺠَﻨَّﺔَ ﻭَﻣَﺄۡﻭَﻯٰﻪُ ﭐﻟﻨَّﺎﺭُۖ ﻭَﻣَﺎ ﻟِﻠﻈَّٰﻠِﻤِﻴﻦَ ﻣِﻦۡ
ﺃَﻧﺼَﺎﺭٖ ٧٢ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ٧٢‏]
“অবশ্যই তারা কুফরি করেছে, যারা বলেছে,
‘নিশ্চয় আল্লাহ হচ্ছেন মারইয়াম পুত্র মসীহ’।
আর মসীহ বলেছে, ‘হে বনী ইসরাইল, তোমরা
আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহর ইবাদত
কর’। নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে শরীক করে,
তার উপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে
দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা আগুন। আর
যালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই”। [10] অপর
আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ﻭَﺇِﺫۡ ﻗَﺎﻝَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻳَٰﻌِﻴﺴَﻰ ﭐﺑۡﻦَ ﻣَﺮۡﻳَﻢَ ﺀَﺃَﻧﺖَ ﻗُﻠۡﺖَ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﭐﺗَّﺨِﺬُﻭﻧِﻲ
ﻭَﺃُﻣِّﻲَ ﺇِﻟَٰﻬَﻴۡﻦِ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻥِ ﭐﻟﻠَّﻪِۖ ﻗَﺎﻝَ ﺳُﺒۡﺤَٰﻨَﻚَ ﻣَﺎ ﻳَﻜُﻮﻥُ ﻟِﻲٓ ﺃَﻥۡ ﺃَﻗُﻮﻝَ
ﻣَﺎ ﻟَﻴۡﺲَ ﻟِﻲ ﺑِﺤَﻖٍّۚ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺖُ ﻗُﻠۡﺘُﻪُۥ ﻓَﻘَﺪۡ ﻋَﻠِﻤۡﺘَﻪُۥۚ ﺗَﻌۡﻠَﻢُ ﻣَﺎ ﻓِﻲ
ﻧَﻔۡﺴِﻲ ﻭَﻟَﺎٓ ﺃَﻋۡﻠَﻢُ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﻧَﻔۡﺴِﻚَۚ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﻋَﻠَّٰﻢُ ﭐﻟۡﻐُﻴُﻮﺏِ ١١٦ ﻣَﺎ
ﻗُﻠۡﺖُ ﻟَﻬُﻢۡ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎٓ ﺃَﻣَﺮۡﺗَﻨِﻲ ﺑِﻪِۦٓ ﺃَﻥِ ﭐﻋۡﺒُﺪُﻭﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺭَﺑِّﻲ ﻭَﺭَﺑَّﻜُﻢۡۚ ﻭَﻛُﻨﺖُ
ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢۡ ﺷَﻬِﻴﺪٗﺍ ﻣَّﺎ ﺩُﻣۡﺖُ ﻓِﻴﻬِﻢۡۖ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺗَﻮَﻓَّﻴۡﺘَﻨِﻲ ﻛُﻨﺖَ ﺃَﻧﺖَ ﭐﻟﺮَّﻗِﻴﺐَ
ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢۡۚ ﻭَﺃَﻧﺖَ ﻋَﻠَﻰٰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲۡﺀٖ ﺷَﻬِﻴﺪٌ ١١٧ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ١١٦،
١١٧‏]
“আর আল্লাহ যখন বলবেন, ‘হে মারইয়ামের
পুত্র ঈসা, তুমি কি মানুষদেরকে বলেছিলে যে,
‘তোমরা আল্লাহ ছাড়া আমাকে ও আমার
মাতাকে ইলাহরূপে গ্রহণ কর?’ সে বলবে,
‘আপনি পবিত্র মহান, যার অধিকার আমার নেই
তা বলা আমার জন্য সম্ভব নয়। যদি আমি তা
বলতাম তাহলে অবশ্যই আপনি তা জানতেন।
আমার অন্তরে যা আছে তা আপনি জানেন,
আর আপনার অন্তরে যা আছে তা আমি জানি
না; নিশ্চয় আপনি গায়েবী বিষয়সমূহে
সর্বজ্ঞাত’।‘আমি তাদেরকে কেবল তাই
বলেছি, যা আপনি আমাকে আদেশ করেছেন যে,
তোমরা আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহর
ইবাদত কর। আর যতদিন আমি তাদের মধ্যে
ছিলাম ততদিন আমি তাদের উপর সাক্ষী
ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে
নিলেন তখন আপনি ছিলেন তাদের
পর্যবেক্ষণকারী। আর আপনি সব কিছুর উপর
সাক্ষী”। [11]
মুসা আলাহিস সালামের সাথে কথার সময়
আল্লাহ তাকে বলেন:
﴿ﺇِﻧَّﻨِﻲٓ ﺃَﻧَﺎ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻟَﺎٓ ﺇِﻟَٰﻪَ ﺇِﻟَّﺎٓ ﺃَﻧَﺎ۠ ﻓَﭑﻋۡﺒُﺪۡﻧِﻲ ﻭَﺃَﻗِﻢِ ﭐﻟﺼَّﻠَﻮٰﺓَ ﻟِﺬِﻛۡﺮِﻱٓ ١٤
﴾ ‏[ ﻃﻪ : ١٤‏]
“নিশ্চয় আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনো
(সত্য) ইলাহ নেই; সুতরাং আমার ইবাদত কর
এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর”। [12]
আল্লাহ্ তা‘আলা তার নবী মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
নির্দেশ প্রদান করেন:
﴿ﻗُﻞۡ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟﻨَّﺎﺱُ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢۡ ﻓِﻲ ﺷَﻚّٖ ﻣِّﻦ ﺩِﻳﻨِﻲ ﻓَﻠَﺎٓ ﺃَﻋۡﺒُﺪُ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ
ﺗَﻌۡﺒُﺪُﻭﻥَ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻥِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻟَٰﻜِﻦۡ ﺃَﻋۡﺒُﺪُ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﻳَﺘَﻮَﻓَّﻯٰﻜُﻢۡۖ ﻭَﺃُﻣِﺮۡﺕُ
ﺃَﻥۡ ﺃَﻛُﻮﻥَ ﻣِﻦَ ﭐﻟۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ١٠٤﴾ ‏[ﻳﻮﻧﺲ : ١٠٤‏]
“বল, ‘হে মানুষ, তোমরা যদি আমার দীনের
ব্যাপারে সন্দেহে থাক, তবে আল্লাহ ছাড়া
তোমরা যার ইবাদত কর আমি তার ইবাদত করি
না, বরং আমি ইবাদত করি আল্লাহর, যিনি
তোমাদের মৃত্যু দেন। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি
মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার”। [13]
আসমানের মালায়েকাও তার ইবাদত করে, তার
সাথে কাউকে তারা শরীক করে না, যেমন
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ﻭَﻟَﻪُۥ ﻣَﻦ ﻓِﻲ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِۚ ﻭَﻣَﻦۡ ﻋِﻨﺪَﻩُۥ ﻟَﺎ ﻳَﺴۡﺘَﻜۡﺒِﺮُﻭﻥَ ﻋَﻦۡ
ﻋِﺒَﺎﺩَﺗِﻪِۦ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺴۡﺘَﺤۡﺴِﺮُﻭﻥَ ١٩ ﴾ ‏[ ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ : ١٩ ‏]
“আর আসমান-জমিনে যারা আছে তারা সবাই
তাঁর; আর তাঁর কাছে যারা আছে তারা
অহঙ্কারবশতঃ তাঁর ইবাদত হতে বিমুখ হয় না
এবং ক্লান্তিও বোধ করে না”। [14]
আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য উপকারও
অপকার এবং সৃষ্টি ও রিজিকের মালিক নয়।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ﻗُﻞۡ ﺃَﺗَﻌۡﺒُﺪُﻭﻥَ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻥِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻣَﺎ ﻟَﺎ ﻳَﻤۡﻠِﻚُ ﻟَﻜُﻢۡ ﺿَﺮّٗﺍ ﻭَﻟَﺎ ﻧَﻔۡﻌٗﺎۚ
ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ ﻫُﻮَ ﭐﻟﺴَّﻤِﻴﻊُ ﭐﻟۡﻌَﻠِﻴﻢُ ٧٦ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ٧٦ ‏]
“বল, ‘তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর
ইবাদত করবে, যা তোমাদের জন্য কোন ক্ষতি ও
উপকারের ক্ষমতা রাখে না? আর আল্লাহ,
তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ”। [15] অপর
আয়াতে তিনি বলেন:
﴿ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺗَﻌۡﺒُﺪُﻭﻥَ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻥِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻭۡﺛَٰﻨٗﺎ ﻭَﺗَﺨۡﻠُﻘُﻮﻥَ ﺇِﻓۡﻜًﺎۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ
ﺗَﻌۡﺒُﺪُﻭﻥَ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻥِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺎ ﻳَﻤۡﻠِﻜُﻮﻥَ ﻟَﻜُﻢۡ ﺭِﺯۡﻗٗﺎ ﻓَﭑﺑۡﺘَﻐُﻮﺍْ ﻋِﻨﺪَ ﭐﻟﻠَّﻪِ
ﭐﻟﺮِّﺯۡﻕَ ﻭَﭐﻋۡﺒُﺪُﻭﻩُ ﻭَﭐﺷۡﻜُﺮُﻭﺍْ ﻟَﻪُۥٓۖ ﺇِﻟَﻴۡﻪِ ﺗُﺮۡﺟَﻌُﻮﻥَ ١٧ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻌﻨﻜﺒﻮﺕ :
١٧‏]
“তোমরা তো আল্লাহকে বাদ দিয়ে
মূর্তিগুলোর পূজা করছ এবং মিথ্যা বানাচ্ছ।
নিশ্চয় তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের উপাসনা
কর তারা তোমাদের জন্য রিযক-এর মালিক নয়।
তাই আল্লাহর কাছে রিযক তালাশ কর, তাঁর
ইবাদত কর এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
কর। তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে”।
[16]
এবার আরেকটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বিষয়টি
শেষ করছি, আর তা হচ্ছে আমরা কেন এক
আল্লাহর ইবাদত করি, যার কোনো শরীক নেই।
এর উত্তর:
প্রথমত: আমরা এ জন্যই তার ইবাদত করি,
যেহেতু তিনি ব্যতীত এ জগতে কেউ ইবাদতের
হকদার নয়। কারণ তিনি সৃষ্টিকারী ও
রিজিকদাতা, তিনি অস্তিত্বহীন থেকে
আমাদেরকে অস্তিত্ব দান করেছেন। তিনি
বলেন:
﴿ﻓَﺴُﺒۡﺤَٰﻦَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺣِﻴﻦَ ﺗُﻤۡﺴُﻮﻥَ ﻭَﺣِﻴﻦَ ﺗُﺼۡﺒِﺤُﻮﻥَ ١٧ ﻭَﻟَﻪُ ﭐﻟۡﺤَﻤۡﺪُ
ﻓِﻲ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﻭَﻋَﺸِﻴّٗﺎ ﻭَﺣِﻴﻦَ ﺗُﻈۡﻬِﺮُﻭﻥَ ١٨ ﻳُﺨۡﺮِﺝُ ﭐﻟۡﺤَﻲَّ
ﻣِﻦَ ﭐﻟۡﻤَﻴِّﺖِ ﻭَﻳُﺨۡﺮِﺝُ ﭐﻟۡﻤَﻴِّﺖَ ﻣِﻦَ ﭐﻟۡﺤَﻲِّ ﻭَﻳُﺤۡﻲِ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽَ ﺑَﻌۡﺪَ ﻣَﻮۡﺗِﻬَﺎۚ
ﻭَﻛَﺬَٰﻟِﻚَ ﺗُﺨۡﺮَﺟُﻮﻥَ ١٩ ﻭَﻣِﻦۡ ﺀَﺍﻳَٰﺘِﻪِۦٓ ﺃَﻥۡ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٖ ﺛُﻢَّ ﺇِﺫَﺍٓ
ﺃَﻧﺘُﻢ ﺑَﺸَﺮٞ ﺗَﻨﺘَﺸِﺮُﻭﻥَ ٢٠ ﻭَﻣِﻦۡ ﺀَﺍﻳَٰﺘِﻪِۦٓ ﺃَﻥۡ ﺧَﻠَﻖَ ﻟَﻜُﻢ ﻣِّﻦۡ ﺃَﻧﻔُﺴِﻜُﻢۡ
ﺃَﺯۡﻭَٰﺟٗﺎ ﻟِّﺘَﺴۡﻜُﻨُﻮٓﺍْ ﺇِﻟَﻴۡﻬَﺎ ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﺑَﻴۡﻨَﻜُﻢ ﻣَّﻮَﺩَّﺓٗ ﻭَﺭَﺣۡﻤَﺔًۚ ﺇِﻥَّ ﻓِﻲ ﺫَٰﻟِﻚَ
ﻟَﺄٓﻳَٰﺖٖ ﻟِّﻘَﻮۡﻡٖ ﻳَﺘَﻔَﻜَّﺮُﻭﻥَ ٢١ ﻭَﻣِﻦۡ ﺀَﺍﻳَٰﺘِﻪِۦ ﺧَﻠۡﻖُ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ
ﻭَﭐﺧۡﺘِﻠَٰﻒُ ﺃَﻟۡﺴِﻨَﺘِﻜُﻢۡ ﻭَﺃَﻟۡﻮَٰﻧِﻜُﻢۡۚ ﺇِﻥَّ ﻓِﻲ ﺫَٰﻟِﻚَ ﻟَﺄٓﻳَٰﺖٖ ﻟِّﻠۡﻌَٰﻠِﻤِﻴﻦَ ٢٢ ﻭَﻣِﻦۡ
ﺀَﺍﻳَٰﺘِﻪِۦ ﻣَﻨَﺎﻣُﻜُﻢ ﺑِﭑﻟَّﻴۡﻞِ ﻭَﭐﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﻭَﭐﺑۡﺘِﻐَﺎٓﺅُﻛُﻢ ﻣِّﻦ ﻓَﻀۡﻠِﻪِۦٓۚ ﺇِﻥَّ ﻓِﻲ ﺫَٰﻟِﻚَ
ﻟَﺄٓﻳَٰﺖٖ ﻟِّﻘَﻮۡﻡٖ ﻳَﺴۡﻤَﻌُﻮﻥَ ٢٣ ﻭَﻣِﻦۡ ﺀَﺍﻳَٰﺘِﻪِۦ ﻳُﺮِﻳﻜُﻢُ ﭐﻟۡﺒَﺮۡﻕَ ﺧَﻮۡﻓٗﺎ ﻭَﻃَﻤَﻌٗﺎ
ﻭَﻳُﻨَﺰِّﻝُ ﻣِﻦَ ﭐﻟﺴَّﻤَﺎٓﺀِ ﻣَﺎٓﺀٗ ﻓَﻴُﺤۡﻲِۦ ﺑِﻪِ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽَ ﺑَﻌۡﺪَ ﻣَﻮۡﺗِﻬَﺎٓۚ ﺇِﻥَّ ﻓِﻲ
ﺫَٰﻟِﻚَ ﻟَﺄٓﻳَٰﺖٖ ﻟِّﻘَﻮۡﻡٖ ﻳَﻌۡﻘِﻠُﻮﻥَ ٢٤ ﻭَﻣِﻦۡ ﺀَﺍﻳَٰﺘِﻪِۦٓ ﺃَﻥ ﺗَﻘُﻮﻡَ ﭐﻟﺴَّﻤَﺎٓﺀُ
ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽُ ﺑِﺄَﻣۡﺮِﻩِۦۚ ﺛُﻢَّ ﺇِﺫَﺍ ﺩَﻋَﺎﻛُﻢۡ ﺩَﻋۡﻮَﺓٗ ﻣِّﻦَ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﺇِﺫَﺍٓ ﺃَﻧﺘُﻢۡ
ﺗَﺨۡﺮُﺟُﻮﻥَ ٢٥ ﻭَﻟَﻪُۥ ﻣَﻦ ﻓِﻲ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِۖ ﻛُﻞّٞ ﻟَّﻪُۥ ﻗَٰﻨِﺘُﻮﻥَ
٢٦ ﻭَﻫُﻮَ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﻳَﺒۡﺪَﺅُﺍْ ﭐﻟۡﺨَﻠۡﻖَ ﺛُﻢَّ ﻳُﻌِﻴﺪُﻩُۥ ﻭَﻫُﻮَ ﺃَﻫۡﻮَﻥُ ﻋَﻠَﻴۡﻪِۚ ﻭَﻟَﻪُ
ﭐﻟۡﻤَﺜَﻞُ ﭐﻟۡﺄَﻋۡﻠَﻰٰ ﻓِﻲ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِۚ ﻭَﻫُﻮَ ﭐﻟۡﻌَﺰِﻳﺰُ ﭐﻟۡﺤَﻜِﻴﻢُ ٢٧
﴾ ‏[ ﺍﻟﺮﻭﻡ: ١٧- ٢٧‏]
“অতএব তোমরা আল্লাহর তাসবীহ কর, যখন
সন্ধ্যায় উপনীত হবে এবং সকালে উঠবে।আর
অপরাহ্ণে ও যোহরের সময়ে; আর আসমান ও
জমিনে সকল প্রশংসা একমাত্র তাঁরই।তিনি মৃত
থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে
মৃতকে বের করেন। আর তিনি জমিনকে জীবিত
করেন তার মৃত্যুর পর। আর এভাবেই তোমরা
উত্থিত হবে।আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে
রয়েছে যে, তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে
সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমরা মানুষ হয়ে
ছড়িয়ে পড়ছ।আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে
রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের
থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা
তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি
তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি
করেছেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে
সে কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে।আর তাঁর
নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে আসমান ও
জমিনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও
তোমাদের বর্ণের ভিন্নতা। নিশ্চয় এর মধ্যে
নিদর্শনাবলী রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য।আর
তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাতে ও দিনে
তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে
তোমাদের (জীবিকা) অন্বেষণ। নিশ্চয় এর
মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য
যারা শোনে।আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে
রয়েছে তিনি তোমাদেরকে ভয় ও ভরসাস্বরূপ
বিদ্যুৎ দেখান, আর আসমান থেকে পানি বর্ষণ
করেন। অতঃপর তা দ্বারা জমিনকে তার মৃত্যুর
পর পুনর্জীবিত করেন। নিশ্চয় এর মধ্যে
নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য যারা
অনুধাবন করে।আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে
রয়েছে, তাঁরই নির্দেশে আসমান ও জমিন
স্থিতিশীল থাকে। তারপর তিনি যখন
তোমাদেরকে জমিন থেকে বের হয়ে আসার
জন্য একবার আহবান করবেন তখনই তোমরা বের
হয়ে আসবে।আর আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু
আছে সব তাঁরই। সব কিছুই তাঁর অনুগত।আর
তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন তারপর তিনিই এর
পুনরাবৃত্তি করবেন। আর এটা তো তাঁর জন্য
অধিকতর সহজ। আসমান ও জমিনে সর্বোচ্চ
মর্যাদা তাঁরই এবং তিনি পরাক্রমশালী,
প্রজ্ঞাময়”। [17]
তিনি অপর আয়াতে বলেন:
﴿ﺃَﻣَّﻦۡ ﺧَﻠَﻖَ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽَ ﻭَﺃَﻧﺰَﻝَ ﻟَﻜُﻢ ﻣِّﻦَ ﭐﻟﺴَّﻤَﺎٓﺀِﻣَﺎٓﺀٗﻓَﺄَﻧۢﺒَﺘۡﻨَﺎ
ﺑِﻪِۦ ﺣَﺪَﺍٓﺋِﻖَ ﺫَﺍﺕَ ﺑَﻬۡﺠَﺔٖﻣَّﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻜُﻢۡ ﺃَﻧﺘُﻨۢﺒِﺘُﻮﺍْ ﺷَﺠَﺮَﻫَﺎٓۗ ﺃَﺀِﻟَٰﻪٞ ﻣَّﻊَ
ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﺑَﻞۡ ﻫُﻢۡ ﻗَﻮۡﻡٞ ﻳَﻌۡﺪِﻟُﻮﻥَ ٦٠ﺃَﻣَّﻦ ﺟَﻌَﻞَ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽَ ﻗَﺮَﺍﺭٗﺍ ﻭَﺟَﻌَﻞَ
ﺧِﻠَٰﻠَﻬَﺎٓ ﺃَﻧۡﻬَٰﺮٗﺍ ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﻟَﻬَﺎ ﺭَﻭَٰﺳِﻲَ ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﺑَﻴۡﻦَ ﭐﻟۡﺒَﺤۡﺮَﻳۡﻦِ ﺣَﺎﺟِﺰًﺍۗ ﺃَﺀِﻟَٰﻪٞ
ﻣَّﻊَ ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﺑَﻞۡ ﺃَﻛۡﺜَﺮُﻫُﻢۡ ﻟَﺎ ﻳَﻌۡﻠَﻤُﻮﻥَ ٦١ ﺃَﻣَّﻦ ﻳُﺠِﻴﺐُ ﭐﻟۡﻤُﻀۡﻄَﺮَّ ﺇِﺫَﺍ
ﺩَﻋَﺎﻩُ ﻭَﻳَﻜۡﺸِﻒُ ﭐﻟﺴُّﻮٓﺀَ ﻭَﻳَﺠۡﻌَﻠُﻜُﻢۡ ﺧُﻠَﻔَﺎٓﺀَ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِۗ ﺃَﺀِﻟَٰﻪٞ ﻣَّﻊَ ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﻗَﻠِﻴﻠٗﺎ
ﻣَّﺎ ﺗَﺬَﻛَّﺮُﻭﻥَ ٦٢ ﺃَﻣَّﻦ ﻳَﻬۡﺪِﻳﻜُﻢۡ ﻓِﻲ ﻇُﻠُﻤَٰﺖِ ﭐﻟۡﺒَﺮِّ ﻭَﭐﻟۡﺒَﺤۡﺮِ ﻭَﻣَﻨﻴُﺮۡﺳِﻞُ
ﭐﻟﺮِّﻳَٰﺢَ ﺑُﺸۡﺮَۢﺍ ﺑَﻴۡﻦَ ﻳَﺪَﻱۡ ﺭَﺣۡﻤَﺘِﻪِۦٓۗ ﺃَﺀِﻟَٰﻪٞ ﻣَّﻊَ ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﺗَﻌَٰﻠَﻰ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻤَّﺎ
ﻳُﺸۡﺮِﻛُﻮﻥَ ٦٣ ﺃَﻣَّﻦ ﻳَﺒۡﺪَﺅُﺍْ ﭐﻟۡﺨَﻠۡﻖَ ﺛُﻢَّ ﻳُﻌِﻴﺪُﻩُۥ
ﻭَﻣَﻨﻴَﺮۡﺯُﻗُﻜُﻤﻤِّﻨَﭑﻟﺴَّﻤَﺎٓﺀِﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِۗ ﺃَﺀِﻟَٰﻪٞ ﻣَّﻊَ ﭐﻟﻠَّﻪِۚ ﻗُﻞۡ ﻫَﺎﺗُﻮﺍْ ﺑُﺮۡﻫَٰﻨَﻜُﻢۡ ﺇِﻥ
ﻛُﻨﺘُﻢۡ ﺻَٰﺪِﻗِﻴﻦَ ٦٤ ﻗُﻠﻠَّﺎ ﻳَﻌۡﻠَﻢُ ﻣَﻦ ﻓِﻲ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﭐﻟۡﻐَﻴۡﺐَ
ﺇِﻟَّﺎ ﭐﻟﻠَّﻪُۚ ﻭَﻣَﺎ ﻳَﺸۡﻌُﺮُﻭﻥَ ﺃَﻳَّﺎﻥَ ﻳُﺒۡﻌَﺜُﻮﻥَ ٦٥﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﻤﻞ: 65-60‏]
“বরং তিনি (শ্রেষ্ঠ), যিনি আসমানসমূহ ও
জমিনকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য
তিনি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন।
অতঃপর তা দ্বারা আমি মনোরম উদ্যান সৃষ্টি
করি। তার বৃক্ষাদি উৎপন্ন করার ক্ষমতা
তোমাদের নেই। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোন
ইলাহ আছে? বরং তারা এমন এক কওম যারা
শির্ক করে। বরং তিনি, যিনি জমিনকে
আবাসযোগ্য করেছেন এবং তার মধ্যে
প্রবাহিত করেছেন নদী-নালা। আর তাতে
স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা এবং দুই
সমুদ্রের মধ্যখানে অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে?
বরং তাদের অধিকাংশই জানে না। বরং তিনি,
যিনি নিরুপায়ের আহবানে সাড়া দেন এবং
বিপদ দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে জমিনের
প্রতিনিধি বানান। আল্লাহর সাথে কি অন্য
কোনো ইলাহ আছে? তোমরা কমই উপদেশ গ্রহণ
করে থাক। বরং তিনি, যিনি তোমাদেরকে
স্থলে ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ দেখান এবং
যিনি স্বীয় রহমতের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহী
বাতাস প্রেরণ করেন। আল্লাহর সাথে কি অন্য
কোনো ইলাহ আছে? তারা যা কিছু শরীক করে
আল্লাহ তা থেকে ঊর্ধ্বে। বরং তিনি, যিনি
সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তার পুনরাবৃত্তি
করবেন এবং যিনি তোমাদেরকে আসমান ও
জমিন থেকে রিজিক দান করেন, আল্লাহর
সাথে কি কোনো ইলাহ আছে? বল, ‘তোমাদের
প্রমাণ নিয়ে এসো যদি তোমরা সত্যবাদী
হও।’বল, ‘আল্লাহ ছাড়া আসমানসমূহে ও
জমিনে যারা আছে তারা গায়েব জানে না।
আর কখন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে তা
তারা অনুভব করতে পারে না”। [18] অতএব
আল্লাহ ব্যতীত কেউ কি আছে, যে ইবাদতের
হকদার?
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে শুধু
তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।তিনি
ইরশাদ করেন:
﴿ﻭَﻣَﺎ ﺧَﻠَﻘۡﺖُ ﭐﻟۡﺠِﻦَّ ﻭَﭐﻟۡﺈِﻧﺲَ ﺇِﻟَّﺎ ﻟِﻴَﻌۡﺒُﺪُﻭﻥِ ٥٦ ﴾ ‏[ﺍﻟﺬﺍﺭﻳﺎﺕ :
٥٦‏]
“আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল এ জন্যই
সৃষ্টি করেছি যে তারা কেবল আমার ইবাদত
করবে”। [19]
তৃতীয়ত: কিয়ামতের দিন একমাত্র তারাই
নাজাত পাবে, যারা যথাযথভাবে আল্লাহর
ইবাদত সম্পাদন করেছে। বান্দাদের হিসাব-
নিকাশ ও আমলের প্রতিদান প্রদানের
নিমিত্তে মৃত্যুর পর আল্লাহ পুনরায় তাদেরকে
উঠাবেন, সেদিন একমাত্র তারাই মুক্তি পাবে,
যারা শুধু এক আল্লাহর ইবাদত করেছে, আর
অবশিষ্টদের জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে, যা
খুব নিকৃষ্ট স্থান।ইসলামের নবী সাল্লাল্লাহু
'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন তার সাথীগণ
জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘কিয়ামতের দিন আমরা
কি আমাদের রবকে দেখব? তিনি বলেছেন:
‏« ﻫَﻞْ ﺗُﻀَﺎﺭُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺭُﺅْﻳَﺔِ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ ﻭَﺍﻟْﻘَﻤَﺮِ ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺻَﺤْﻮًﺍ ﻗُﻠْﻨَﺎ
ﻻ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺈِﻧَّﻜُﻢْ ﻻ ﺗُﻀَﺎﺭُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺭُﺅْﻳَﺔِ ﺭَﺑِّﻜُﻢْ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﺇِﻻ ﻛَﻤَﺎ
ﺗُﻀَﺎﺭُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺭُﺅْﻳَﺘِﻬِﻤَﺎ ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﻳُﻨَﺎﺩِﻱ ﻣُﻨَﺎﺩٍ ﻟِﻴَﺬْﻫَﺐْ ﻛُﻞُّ ﻗَﻮْﻡٍ ﺇِﻟَﻰ
ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ ﻓَﻴَﺬْﻫَﺐُ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻟﺼَّﻠِﻴﺐِ ﻣَﻊَ ﺻَﻠِﻴﺒِﻬِﻢْ
ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻷَﻭْﺛَﺎﻥِ ﻣَﻊَ ﺃَﻭْﺛَﺎﻧِﻬِﻢْ ﻭَﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﻛُﻞِّ ﺁﻟِﻬَﺔٍ ﻣَﻊَ ﺁﻟِﻬَﺘِﻬِﻢْ
ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺒْﻘَﻰ ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺒُﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣِﻦْ ﺑَﺮٍّ ﺃَﻭْ ﻓَﺎﺟِﺮٍ ﻭَﻏُﺒَّﺮَﺍﺕٌ ﻣِﻦْ
ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺛُﻢَّ ﻳُﺆْﺗَﻰ ﺑِﺠَﻬَﻨَّﻢَ ﺗُﻌْﺮَﺽُ ﻛَﺄَﻧَّﻬَﺎ ﺳَﺮَﺍﺏٌ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ
ﻟِﻠْﻴَﻬُﻮﺩِ ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﻌْﺒُﺪُ ﻋُﺰَﻳْﺮَ ﺍﺑْﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ
ﻛَﺬَﺑْﺘُﻢْ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟِﻠَّﻪِ ﺻَﺎﺣِﺒَﺔٌ ﻭَﻻ ﻭَﻟَﺪٌ ﻓَﻤَﺎ ﺗُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻧُﺮِﻳﺪُ ﺃَﻥْ
ﺗَﺴْﻘِﻴَﻨَﺎ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ ﺍﺷْﺮَﺑُﻮﺍ ﻓَﻴَﺘَﺴَﺎﻗَﻄُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﺛُﻢَّ ﻳُﻘَﺎﻝُ ﻟِﻠﻨَّﺼَﺎﺭَﻯ
ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﻌْﺒُﺪُ ﺍﻟْﻤَﺴِﻴﺢَ ﺍﺑْﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ
ﻛَﺬَﺑْﺘُﻢْ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟِﻠَّﻪِ ﺻَﺎﺣِﺒَﺔٌ ﻭَﻻ ﻭَﻟَﺪٌ ﻓَﻤَﺎ ﺗُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﻧُﺮِﻳﺪُ
ﺃَﻥْ ﺗَﺴْﻘِﻴَﻨَﺎ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ ﺍﺷْﺮَﺑُﻮﺍ ﻓَﻴَﺘَﺴَﺎﻗَﻄُﻮﻥَ ﻓِﻲ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺒْﻘَﻰ ﻣَﻦْ
ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺒُﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣِﻦْ ﺑَﺮٍّ ﺃَﻭْ ﻓَﺎﺟِﺮٍ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻬُﻢْ ﻣَﺎ ﻳَﺤْﺒِﺴُﻜُﻢْ ﻭَﻗَﺪْ
ﺫَﻫَﺐَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﻓَﺎﺭَﻗْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻭَﻧَﺤْﻦُ ﺃَﺣْﻮَﺝُ ﻣِﻨَّﺎ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ
ﻭَﺇِﻧَّﺎ ﺳَﻤِﻌْﻨَﺎ ﻣُﻨَﺎﺩِﻳًﺎ ﻳُﻨَﺎﺩِﻱ ﻟِﻴَﻠْﺤَﻖْ ﻛُﻞُّ ﻗَﻮْﻡٍ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ
ﻭَﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻧَﻨْﺘَﻈِﺮُ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﻴَﺄْﺗِﻴﻬِﻢْ ﺍﻟْﺠَﺒَّﺎﺭُ .. ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ﺃَﻧَﺎ ﺭَﺑُّﻜُﻢْ
ﻓَﻴَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑُّﻨَﺎ ﻓَﻼ ﻳُﻜَﻠِّﻤُﻪُ ﺇِﻻ ﺍﻷَﻧْﺒِﻴَﺎﺀُ ..ﻓَﻴَﺴْﺠُﺪُ ﻟَﻪُ ﻛُﻞُّ
ﻣُﺆْﻣِﻦٍ‏»
“তোমরা কি সূর্য ও চাঁদ দেখতে কষ্ট অনুভব কর
যখন পরিষ্কার থাকে? আমরা বললাম: না, তিনি
বললেন: সে দিন তোমাদের রবকে দেখতে
কোনো কষ্ট অনুভব হবে না, যেমন কষ্ট অনুভব
কর এ দু’টোকে দেখতে। অতঃপর এক
ঘোষণাকারী ঘোষণা দিবে, প্রত্যেক কওম যেন
তাদের উপাস্যদের নিকট চলে যায়, ফলে ক্রুশ
পূজারিরা তাদের ক্রুশের সাথে চলে যাবে,
মূর্তি পূজারিরা তাদের মূর্তির সাথে চলে
যাবে এবং প্রত্যেক উপাস্যদের ইবাদতকারিরা
তাদের উপাস্যদের সাথে চলে যাবে, অবশেষে
শুধু আল্লাহকে ইবাদতকারী নেককার অথবা
বদকার লোকেরা বাকি থাকবে এবং অবশিষ্ট
কতক আহলে কিতাব। অতঃপর জাহান্নামকে
এনে পেশ করা হবে, যেন তা মরীচিকা।
ইহুদিদেরকে বলা হবে: তোমরা কার ইবাদত
করতে, তারা বলবে আমরা আল্লাহর ছেলে
উযায়ের এর ইবাদত করতাম। তাদেরকে বলা
হবে: তোমরা মিথ্যা বলেছ, আল্লাহর কোনো
সন্তান ও স্ত্রী ছিল না। তোমরা কি চাও?
তারা বলবে: আমাদেরকে পানি পান করান।
বলা হবে: তোমরা পান কর, ফলে তারা
জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। অতঃপর
খ্রিস্টানদের বলা হবে: তোমরা কার ইবাদত
করতে, তারা বলবে: আমরা আল্লাহর ছেলে
মাসীহের ইবাদত করতাম। তাদেরকে বলা হবে:
তোমরা মিথ্যা বলেছ, আল্লাহর কোনো সন্তান
ও স্ত্রী ছিল না, তোমরা কি চাও? তারা বলবে:
আমাদেরকে পানি পান করান। বলা হবে:
তোমরা পান কর, ফলে তারা জাহান্নামে
নিক্ষিপ্ত হবে, অবশেষে শুধু আল্লাহকে
ইবাদতকারী নেককার কিংবা বদকার অবশিষ্ট
থাকবে। অতঃপর তাদেরকে বলা হবে:
তোমাদেরকে কিসে আটকে রেখেছে, অথচ
লোকেরা চলে গেছে? তারা বলবে: আমরা
তাদের থেকে পৃথক হয়ে গেছি। আজ আমরা তার
(রবের) খুব মুখাপেক্ষী। আমরা এক
ঘোষণাকারীকে ঘোষণা করতে শুনেছি, প্রত্যেক
কওম তাদের উপাস্যদের সাথে গিয়ে মিলুক,
ফলে আমরা আমাদের রবের অপেক্ষা করছি।
তিনি বলেন, তাই তাদের নিকট আল্লাহ
আসবেন... তিনি বলবেন: আমি তোমাদের রব,
তারা বলবে: আপনি আমাদের রব, নবীগণ
ব্যতীত তার সাথে কেউ কথা বলবে না...,
অতঃপর প্রত্যেক মুমিন তাকে সেজদা করবে”।
[20]
তারা সবাই মুমিন, তারাই একমাত্র
জান্নাতবাসী, তাদের উপর কোনো ভয় নেই,
তারা কখনো চিন্তিত হবে না, তারা সেখানে
সর্বদা থাকবে। আশা করছি বিষয়টি স্পষ্ট
হয়েছে। অতঃপর শুধু আল্লাহর বাণী দ্বারাই
শেষ করছি, তিনি বলেন:
﴿ﻣَّﻦِ ﭐﻫۡﺘَﺪَﻯٰ ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﻳَﻬۡﺘَﺪِﻱ ﻟِﻨَﻔۡﺴِﻪِۦۖ ﻭَﻣَﻦ ﺿَﻞَّ ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﻳَﻀِﻞُّ ﻋَﻠَﻴۡﻬَﺎۚ
١٥ ﴾ ‏[ ﺍﻻﺳﺮﺍﺀ : ١٥‏]
“যে হিদায়েত গ্রহণ করে, সে তো নিজের
জন্যই হিদায়েত গ্রহণ করে এবং যে পথভ্রষ্ট
হয় সে নিজের (স্বার্থের) বিরুদ্ধেই পথভ্রষ্ট
হয়”। [21] হিদায়েত অনুসারীর উপর সালাম।
সূত্র:
ﻣﻮﻗﻊ ﺍﻹﺳﻼﻡ ﺳﺆﺍﻝ ﻭﺟﻮﺍﺏ
[1] সূরা আন‘আম: (৮৮)
[2] সূরা আন‘আম: (১২৫)
[3] সূরা ফাতেহা: (১-৫)
[4] সূরা বাকারা: (২১)
[5] সূরা আন‘আম: (১০২)
[6] সূরাআল-ইসরা: (২৩)
[7] সূরা বাকারা: (১৩৩)
[8] সূরা আলে-ইমরান: (৬৪)
[9] সূরা আরাফ: (৫৮)
[10] সূরা আল-মায়েদাহ্: (৭২)
[11] সূরা মায়েদা: (১১৬-১১৭)
[12] সূরা ত্বহা: (১৪)
[13] সূরা ইউনুস: (১০৪)
[14] সূরা আম্বিয়া: (১৯)
[15] সূরা মায়েদাহ্: (৭৬)
[16] সূরা ‘আনকাবুত: (১৭)
[17] সূরা রূম: (১৭-২৭)
[18] সূরা নামল: (৬০-৬৫)
[19] সূরা যারিয়াত: (৩৩)
[20] বুখারি: (৬৮৮৬), (৭৪৪০)
[21] সূরা ইসরা: (১৫)

No comments

Powered by Blogger.