Header Ads

যাকাত বিষয়ে ৩৭ অতি গুতুত্ত পুর্ন প্রশ্নউত্তর

(ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম
থেকে)
মূল: আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল উছাইমীন (রাহ:)
অনুবাদক: শাইখ মুহা: আব্দুল্লাহ আল কাফী
প্রশ্ন: (৩৫৪) যাকাত ফরয হওয়ার শর্তাবলী কি কি?
উত্তর: যাকাত ফরয হওয়ার শর্তাবলী নিম্নরূপ:
ক) ইসলাম
খ) স্বাধীন
গ) নেসাবের মালিক হওয়া ও তা স্থিতিশীল থাকা।
ঘ) বছর পূর্ণ হওয়া।
ইসলাম: কাফেরের উপর যাকাত ফরয নয়। যাকাতের নামে সে প্রদান
করলেও আল্লাহ্ তা কবুল করবেন না। আল্লাহ্ বলেন,
ﻭَﻣَﺎ ﻣَﻨَﻌَﻬُﻢْ ﺃَﻥْ ﺗُﻘْﺒَﻞَ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﻧَﻔَﻘَﺎﺗُﻬُﻢْ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺑِﺮَﺳُﻮﻟِﻪِ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺄْﺗُﻮﻥَ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻫُﻢْ
ﻛُﺴَﺎﻟَﻰ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﻨﻔِﻘُﻮﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﻭَﻫُﻢْ ﻛَﺎﺭِﻫُﻮﻥَ
“তাদের সম্পদ ব্যয় শুধু মাত্র এই কারণে গ্রহণ করা হবে না যে, তারা
আল্লাহ্ ও তার রাসূলের সাথে কুফরী করেছে। অলস ভঙ্গিতে ছাড়া
তারা নামাযে আসে না এবং মনের অসন্তষ্টি নিয়ে খরচ করে।” (সূরা
তওবাঃ ৫৪)
কাফেরের উপর যাকাত ফরয নয় এবং আদায় করলেও গ্রহণ করা হবে
না একথার অর্থ এটা নয় যে, পরকালেও তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে;
বরং তাকে এজন্য শাস্তি দেয়া হবে। আল্লাহ্ বলেন,
ﻛُﻞُّ ﻧَﻔْﺲٍ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺴَﺒَﺖْ ﺭَﻫِﻴﻨَﺔٌ، ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏَ ﺍﻟْﻴَﻤِﻴﻦِ، ﻓِﻲ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﻳَﺘَﺴَﺎﺀَﻟُﻮﻥَ، ﻋَﻦْ ﺍﻟْﻤُﺠْﺮِﻣِﻴﻦَ، ﻣَﺎ
ﺳَﻠَﻜَﻜُﻢْ ﻓِﻲ ﺳَﻘَﺮَ، ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻟَﻢْ ﻧَﻚُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺼَﻠِّﻴﻦَ، ﻭَﻟَﻢْ ﻧَﻚُ ﻧُﻄْﻌِﻢُ ﺍﻟْﻤِﺴْﻜِﻴﻦَ، ﻭَﻛُﻨَّﺎ ﻧَﺨُﻮﺽُ ﻣَﻊَ
ﺍﻟْﺨَﺎﺋِﻀِﻴﻦَ، ﻭَﻛُﻨَّﺎ ﻧُﻜَﺬِّﺏُ ﺑِﻴَﻮْﻡِ ﺍﻟﺪِّﻳﻦِ، ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﺗَﺎﻧَﺎ ﺍﻟْﻴَﻘِﻴﻦُ
“প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী; কিন্তু ডান দিকের
লোকেরা ছাড়া। তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে
জিজ্ঞাসাবাদ করবে অপরাধীদের সম্পর্কে। বলবে, তোমাদেরকে
কিসে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছে? তারা বলবে, আমরা নামায
পড়তাম না, অভাবগ্রস্তকে আহার্য দিতাম না। আমরা সমালোচকদের
সাথে সমালোচনা করতাম। এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার
করতাম। এমনকি আমাদের মৃত্যু এসে গেছে।” (সূরা মুদ্দাস্সিরঃ
৩৮-৪৭) এথেকে বুঝা যায় ইসলামের বিধি-বিধান না মেনে চলার
কারণে কাফেরদেরকে শাস্তি দেয়া হবে।
স্বাধীনতা: ক্রীতদাসের কোন সম্পদ নেই। কোন সম্পদ থাকলেও তা
তার মালিকের সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন
ﻣَﻦِ ﺍﺑْﺘَﺎﻉَ ﻋَﺒْﺪًﺍ ﻓَﻤَﺎﻟُﻪُ ﻟِﻠَّﺬِﻱ ﺑَﺎﻋَﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻥْ ﻳَﺸْﺘَﺮِﻁَ ﺍﻟْﻤُﺒْﺘَﺎﻉ
“সম্পদের অধিকারী কোন ক্রীতদাস যদি কেউ বিক্রয় করে, তবে উক্ত
সম্পদের মালিকানা বিক্রেতার থাকবে। কিন্তু যদি ক্রেতা উক্ত
সম্পদের শর্তারোপ করে থাকে তবে ভিন্ন কথা।”[1]
নেসাবের মালিক হওয়া: অর্থাৎ তার কাছে এমন পরিমাণ সম্পদ
থাকবে, শরীয়ত যা নেসাব হিসেবে নির্ধারণ করেছে। সম্পদের
প্রকারভেদ অনুযায়ী এর পরিমাণ বিভিন্ন রূপ হয়ে থাকে। অতএব
মানুষের কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকলে বা নেসাবের কম
সম্পদ থাকলে তাতে যাকাত দিতে হবে না। কেননা তার সম্পদ কম।
আর অল্প সম্পদ দ্বারা অন্যের কল্যাণ করা সম্ভব নয়।
চতুষ্পদ জন্তুর নেসাবে শুরু এবং শেষ সংখ্যার খেয়াল রাখতে হবে।
কিন্তু অন্যান্য সম্পদে শুধু প্রথমে কত ছিল তার হিসাব ধর্তব্য। পরে
যা অতিরিক্ত হবে তার হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।
বছর অতিক্রান্ত হওয়া: কেননা বছর পূর্ণ না হওয়া স্বত্বেও যাকাতের
আবশ্যকতা সম্পদশালীর প্রতি কঠোরতা করা হয়। বছর পূর্তি হওয়ার
পরও যাকাত বের না করলে যাকাতের হকদারদের প্রতি অবিচার করা
হয়; তাদের ক্ষতি করা হয়। একারণে প্রজ্ঞা পূর্ণ শরীয়ত এর জন্য
একটি সীমারেখা নির্ধারণ করেছে এবং এর মধ্যে যাকাতের
আবশ্যকতা নির্ধারণ করেছে। আর তা হচ্ছে বছর পূর্তি। অতএব এর
মধ্যে সম্পদশালী ও যাকাতের হকদারদের মধ্যে একটি সামঞ্জস্যতা
বিধান করা হয়েছে।
এ কারণে বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে কোন মানুষ যদি মৃত্যু বরণ করে বা
তার সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যায়, তবে যাকাত রহিত হয়ে যাবে। অবশ্য
তিনটি জিনিস এ বিধানের ব্যতিক্রম: ১) ব্যবসার লভ্যাংশ ২) চতুষ্পদ
জন্যর বাচ্চা ৩) উশর।
ব্যবসার লভ্যাংশে ব্যবসার মূল সম্পদের সাথে যোগ করে যাকাত
দিতে হবে। আর চতুষ্পদ জন্তুর ভূমিষ্ঠ বাচ্চার যাকাত তার মায়ের
সাথে মিলিত করে দিতে হবে। আর উশর অর্থাৎ জমিনে উৎপাদিত
ফসল ঘরে উঠালেই যাকাত দিতে হবে।
প্রশ্ন: (৩৫৫) প্রতিমাসে প্রাপ্য বেতনের যাকাত কিভাবে প্রদান
করতে হবে?
উত্তর: এক্ষেত্রে সুন্দর পন্থা হচ্ছে, প্রথম বেতনের যদি এক বছর
পূর্তি হয়; তবে তার সাথে সংশ্লিষ্ট করে সবগুলোর যাকাত আদায়
করে দিবে। যে বেতনে বছর পূর্ণ হয়েছে তার যাকাত সময়ের মধ্যেই
আদায় করা হল। আর যাতে বছর পূর্ণ হয়নি তার যাকাত অগ্রিম আদায়
হয়ে গেল। প্রতিমাসের বেতন আলাদা হিসাব রাখার চাইতে এটাই
হচ্ছে সহজ পন্থা। কিন্তু দ্বিতীয় মাসের বেতন আসার আগেই যদি
প্রথম মাসের বেতন খরচ হয়ে যায়, তবে তার উপর কোন যাকাত নেই।
কেননা যাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হচ্ছে বছর পূর্ণ হওয়া।
প্রশ্ন: (৩৫৬) শিশু ও পাগলের সম্পদে কি যাকাত ওয়াজিব হবে?
উত্তর: বিষয়টি বিদ্বানদের মধ্যে মত বিরোধপূর্ণ। কেউ বলেন,
নাবালেগ ও পাগলের সম্পদে যাকাত ওয়াজিব নয়। কেননা এরা তো
শরীয়তের বিধি-নিষেধ মেনে চলার বাধ্যবাধকতার বাইরে। অতএব
তাদের সম্পদে যাকাত আবশ্যক হবে না।
কোন কোন বিদ্বান বলেন, বরং তাদের সম্পদে যাকাত আবশ্যক হবে।
আর এটাই বিশুদ্ধ মত। কেননা যাকাত সম্পদের অধিকার। মালিক কে
তা দেখার বিষয় নয়। আল্লাহ্ বলেন, ﺧُﺬْ ﻣِﻦْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً “তাদের সম্পদ
থেকে যাকাত গ্রহণ করুন।” (সূরা তাওবাঃ ১০৩) এখানে আবশ্যকতার
নির্দেশ সম্পদে করা হয়েছে। তাছাড়া মুআ’য বিন জাবাল (রা:)কে
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইয়ামান প্রেরণ করে
বলেছিলেন,
ﺃَﻋْﻠِﻤْﻬُﻢْ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻓْﺘَﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﻓِﻲ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ ﺗُﺆْﺧَﺬُ ﻣِﻦْ ﺃَﻏْﻨِﻴَﺎﺋِﻬِﻢْ ﻭَﺗُﺮَﺩُّ ﻋَﻠَﻰ ﻓُﻘَﺮَﺍﺋِﻬِﻢْ
“তাদেরকে জানিয়ে দিবে আল্লাহ্ তাদের সম্পদে যাকাত ফরয
করেছেন। ধনীদের থেকে যাকাত গ্রহণ করে তাদের মধ্যে অভাবীদের
মাঝে বিতরণ করা হবে।” [2] অতএব এ ভিত্তিতে নাবালেগ ও পাগলের
সম্পদে যাকাত আবশ্যক হবে। তাদের অভিভাবক এ যাকাত বের করার
দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রশ্ন: (৩৫৭) প্রদত্ত ঋণের যাকাত আদায় করার বিধান কি?
উত্তর: সম্পদ যদি ঋণ হিসেবে অন্যের কাছে থাকে, তবে ফিরিয়ে না
পাওয়া পর্যন্ত তাতে যাকাত আবশ্যক নয়। কেননা উহা তার হাতে
নেই। কিন্তু ঋণ গ্রস্থ ব্যক্তি যদি সম্পদশালী লোক হয়, তবে প্রতি
বছর তাকে (ঋণ দাতাকে) যাকাত বের করতে হবে। নিজের অন্যান্য
সম্পদের সাথে তার যাকাত আদায় করে দিলে জিম্মা থেকে মুক্ত হয়ে
যাবে। অন্যথা উহা ফেরত পাওয়ার পর হিসেব করে বিগত প্রত্যেক
বছরের যাকাত আদায় করতে হবে। কেননা উহা সম্পদশালী লোকের
হাতে ছিল। আর তা তলব করাও সম্ভব ছিল। সুতরাং ঋণদাতার
ইচ্ছাতেই চাইতে দেরী করা হয়েছে।
কিন্তু ঋণ যদি অভাবী লোকের হাতে থাকে। অথবা এমন ধনী লোকের
হাতে যার নিকট থেকে উদ্ধার করা কষ্টকর, তবে তার উপর প্রতি বছর
যাকাত আবশ্যক হবে না। কেননা উহা হাতে পাওয়া তার জন্য
অসম্ভব। কেননা আল্লাহ্ বলেন:
ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺫُﻭ ﻋُﺴْﺮَﺓٍ ﻓَﻨَﻈِﺮَﺓٌ ﺇِﻟَﻰ ﻣَﻴْﺴَﺮَﺓٍ
“যদি অভাবী হয় তবে তাকে সচ্ছলতা পর্যন্ত অবকাশ দিবে।” (সূরা
বাক্বারাঃ ২৮০) অতএব তার জন্য সম্ভব নয় এ সম্পদ পুনরুদ্ধার করা
এবং তা দ্বারা উপকৃত হওয়া। কিন্তু পুনরুদ্ধার করতে পারলে
বিদ্বানদের মধ্যে কেউ বলেন, তখন থেকে নতুন করে বছর গণনা শুরু
করবে। আবার কেউ বলেন, বিগত এক বছরের যাকাত বের করবে এবং
পরবর্তী বছর আসলে আবার যাকাত আদায় করবে। এটাই অত্যধিক
সতর্ক অভিমত। (আল্লাহই অধিক জ্ঞান রাখেন।(
প্রশ্ন: (৩৫৮) মৃত ব্যক্তির ঋণ কি যাকাত থেকে পরিশোধ করা
যাবে?
উত্তর: ইবনে আবদুল বার্ ও আবু উবাইদা বলেন, বিদ্বানদের এজমা বা
ঐকমত্য হচ্ছে, কোন সম্পদ রেখে যায়নি এমন অভাবী ঋণ গ্রস্থ মৃত
ব্যক্তির ঋণ যাকাত দ্বারা পরিশোধ করা যাবে না। কিন্তু আসলে
বিষয়টি মত বিরোধপূর্ণ। অবশ্য অধিকাংশ আলেম বলে থাকেন, যাকাত
দ্বারা মৃতের ঋণ পরিশোধ করা যাবে না। কেননা মৃত ব্যক্তি তো
আখেরাতে পাড়ি জমিয়েছে। ঋণের কারণে জীবিত ব্যক্তি যে ধরণের
লাঞ্ছনা ও অবমাননার স্বীকার হয় মৃত ব্যক্তি এরূপ হয় না। তাছাড়া
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃতের ঋণ যাকাত থেকে
আদায় করতেন না; বরং গনিমতের সম্পদ থেকে উক্ত ঋণ পরিশোধ
করতেন। এথেকে বুঝা যায় যাকাত থেকে মৃতের ঋণ পরিশোধ করা
বিশুদ্ধ নয়।
বলা হয়, মৃত ব্যক্তি যদি পরিশোধ করার নিয়ত রেখে ঋণ করে থাকে,
তবে আল্লাহ্ তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে তার পক্ষ থেকে তা আদায় করে
দিবেন। কিন্তু গ্রহণ করার সময় পরিশোধের নিয়ত না থাকলে, অপরাধী
হিসেবে তার জিম্মায় উহা অবশিষ্ট থাকবে এবং কিয়ামত দিবসে তা
পরিশোধ করবে। আমার মতে এই মতটিই অধিক পছন্দনীয় যাকাত থেকে
তার ঋণ পরিশোধ করার মতের চেয়ে।
এমনও বলা হয়, প্রয়োজনীয়তার দিকে লক্ষ্য রেখে জীবিত ও মৃতের
মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। জীবিত লোকদের অভাব, ঋণ, জিহাদ
প্রভৃতি ক্ষেত্রে যদি যাকাতের অধিক প্রয়োজনীয়তা থাকে, তবে
তাদের বিষয়টি অগ্রগণ্য। কিন্তু তাদের এধরণের কোন প্রয়োজনীয়তা
না থাকলে, সহায়-সম্বলহীন মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া ঋণ যাকাত
দ্বারা পরিশোধ করতে কোন অসুবিধা নেই। সম্ভবত: এটি মধ্যপন্থী
মত।
প্রশ্ন: (৩৫৯) ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির সদকা করা কি ঠিক হবে? ঋণগ্রস্থ
ব্যক্তি কোন ধরণের শরীয়তের দাবী থেকে মুক্তি পাবে?
উত্তর: শরীয়ত নির্দেশিত একটি খরচ হচ্ছে দান-সদকা। সদকা জায়গা
মত দেয়া হলে তা হবে আল্লাহ্র বান্দাদের উপর অনুগ্রহ।
সাদকাকারী ছওয়াব পাবে, কিয়ামত দিবসে ছদকার ছায়ার নীচে
অবস্থান করবে। সদকা কবুল হওয়ার শর্ত পূর্ণ করে যাকেই দান করা
হোক তার দান গ্রহণ করা হবে। চাই দানকারী ঋণগ্রস্থ হোক বা না
হোক। ইখলাস বা একনিষ্ঠতার সাথে, হালাল উপার্জন থেকে জায়গা
মত দান করলেই শরীয়তের দলীল অনুযায়ী তার দান কবুল হবে।
দানকারী ঋণমুক্ত হতে হবে এমন কোন শর্ত নেই। কিন্তু কোন ব্যক্তি
যদি এমন ঋণে ডুবে থাকে যা পরিশোধ করার জন্য তার সমস্ত
সম্পত্তি দরকার, তবে এটা কোন যুক্তি সংগত ও বিবেক সম্মত কথা
নয় যে, জরুরী ও আবশ্যক ঋণ পরিশোধ না করে সে নফল দান-সদকা
করবে! অতএব তার উপর আবশ্যক হচ্ছে, প্রথমে ফরয কাজ করা তারপর
নফল কাজ করা। তারপরও ঐ অবস্থায় দান করলে তার ব্যাপারে
আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেন, এরূপ করা জায়েজ নয়।
কেননা এতে পাওনাদারের ক্ষতি করা হয় এবং নিজের জিম্মায়
আবশ্যিক ঋণের বোঝা বহন করে রাখা হয়। আবার কেউ বলেন: দান
করা জায়েজ আছে কিন্তু উত্তমতার বিপরীত।
মোটকথা, যে ব্যক্তির আপাদমস্তক ঋণে জর্জরিত আর পরিশোধ
করার জন্য নিজের সমস্থ সম্পত্তি দরকার, তার পক্ষে দান্তসাদকা
করা উচিত নয়। কেননা নফল কাজের চাইতে ওয়াজিব কাজের গুরুত্ব
বেশী এবং তা অগ্রগণ্য।
আর ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি ঋণ মুক্ত হওয়া পর্যন্ত কোন্ ধরণের শরীয়তের
দাবী থেকে মুক্তি পাবে?
তার মধ্যে একটি হচ্ছে হজ্জ। ঋণ পরিশোধ করা পর্যন্ত ঋণগ্রস্থ
ব্যক্তির উপর হজ্জের দায়িত্ব নেই বা হজ্জ ফরয নয়।
কিন্তু যাকাতের ব্যাপারে বিদ্বানগণ মতভেদ করেছেন। ঋণগ্রস্তের
উপর থেকে যাকাতের আবশ্যকতা রহিত হবে কি হবে না?
একদল আলেম বলেছেন, ঋণ পরিমাণ সম্পদে যাকাতের আবশ্যকতা
রহিত হবে। চাই উক্ত সম্পদ প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য।
আরেক দল আলেম বলেন, তার উপর কোন সময় যাকাতের আবশ্যকতা
রহিত হবে না। হাতে যে সম্পদই থাক না কেন হিসেব করে তার যাকাত
বের করতে হবে। যদিও তার উপর এমন ঋণ থাকে যা পরিশোধ করে
দিলে অবশিষ্ট সম্পদ নেসাব পরিমাণ হয় না।
অন্যদল আলেম বলেন, বিষয়টি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। তার সম্পদ যদি
অপ্রকাশ্য ধরণের হয় যা প্রত্যক্ষ নয় গোপন থাকে, যেমন, টাকা-
পয়সা এবং ব্যবসায়িক পণ্য, তবে তাতে ঋণ পরিমাণ সম্পদে যাকাত
রহিত হবে। আর সম্পদ যদি প্রকাশ্য ধরণের হয়, যেমন্ত পশু, জমিন
থেকে উৎপাদিত ফসল ইত্যাদি, তবে তাতে যাকাত রহিত হবে না।
আমার মতে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে: কোন সময়ই যাকাত রহিত হবে না। চাই
সম্পদ প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য। তার হাতে যে সম্পদ আছে তা
যদি যাকাতের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং নেসাব পরিমাণ হয়, তবে তার
যাকাত দিতে হবে। যদিও তার উপর ঋণ থাকে। কেননা যাকাত হচ্ছে
সম্পদের অধিকার। আল্লাহ্ তা’আলা এরশাদ করেন,
ﺧُﺬْ ﻣِﻦْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﺗُﻄَﻬِّﺮُﻫُﻢْ ﻭَﺗُﺰَﻛِّﻴﻬِﻢْ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﺻَﻞِّ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺇِﻥَّ ﺻَﻠَﺎﺗَﻚَ ﺳَﻜَﻦٌ ﻟَﻬُﻢْ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺳَﻤِﻴﻊٌ ﻋَﻠِﻴﻢٌ
“)হে নবী ) আপনি তাদের ধন-সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করুন, যা
দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন, আর তাদের জন্য
দু’আ করুন। নিঃসন্দেহে আপনার দু’আ হচ্ছে তাদের জন্য শাস্তির
কারণ। আর আল্লাহ্ খুব শোনেন, খুব জানেন।” (সূরা তাওবাঃ- ১০৩)
তাছাড়া মুআ’য বিন জাবাল (রা:)কে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) ইয়ামান প্রেরণ করে বলেছিলেন,
ﺃَﻋْﻠِﻤْﻬُﻢْ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻓْﺘَﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﻓِﻲ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻬِﻢْ ﺗُﺆْﺧَﺬُ ﻣِﻦْ ﺃَﻏْﻨِﻴَﺎﺋِﻬِﻢْ ﻭَﺗُﺮَﺩُّ ﻋَﻠَﻰ ﻓُﻘَﺮَﺍﺋِﻬِﻢْ
“তাদেরকে জানিয়ে দিবে আল্লাহ্ তাদের সম্পদে যাকাত ফরয
করেছেন। ধনীদের থেকে যাকাত গ্রহণ করে তাদের মধ্যে অভাবীদের
মাঝে বিতরণ করা হবে।” [3] কুরআন-সুন্নাহ্র এই দলীলের ভিত্তিতে
বিষয় দু’টি আলাদা হয়ে গেল। অতএব যাকাত ও ঋণের মাঝে কোন
দ্বন্দ্ব থাকল না। কেননা ঋণ হচ্ছে ব্যক্তির জিম্মায় আবশ্যক। আর
যাকাত সম্পদে আবশ্যক। প্রত্যেকটি বিষয় তার নির্দিষ্ট স্বস্থানে
আবশ্যক হবে। কেউ কারো স্থলাভিষিক্ত হবে না। অতএব ঋণ
ব্যক্তির জিম্মায় বাকী থাকবে। আর সময় হলে শর্ত পূর্ণ হলে অবশ্যই
যাকাত বের করে দিবে।
প্রশ্ন: (৩৬০) জনৈক ব্যক্তি চার বছর যাকাত আদায় করেনি। এখন তার
করণীয় কি?
উত্তর: যাকাত আদায়ে বিলম্ব করার কারণে এ লোক গুনাহ্গার।
কেননা মানুষের উপর ওয়াজিব হচ্ছে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার সাথে
সাথে দেরী না করে যাকাত আদায় করে দেয়া। আবশ্যিক বিষয়ের মূল
হচ্ছে, সময় হওয়ার সাথে সাথে দেরী না করে তা সম্পাদন করে ফেলা।
এ লোকের উচিত আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, তওবা করা।
তার উপর আবশ্যক হচ্ছে বছরগুলোর হিসেব করে যাকাত আদায় করে
দেয়া। উক্ত যাকাতের কোন কিছুই তার থেকে রহিত হবে না। তাকে
তওবা করতে হবে এবং দ্রুত যাকাত আদায় করে দিতে হবে। যাতে
করে দেরী করার কারণে গুনাহ্ আরও বাড়তে না থাকে।
প্রশ্ন: (৩৬১) বছরের অর্ধেক সময় পশু চারণ ভূমিতে চরে খেলে তাতে
কি যাকাত দিতে হবে?
উত্তর: যে পশু বছরের পূর্ণ অর্ধেক সময় চারণ ভূমিতে চরে খায় তাতে
যাকাত দিতে হবে না। কেননা পশু সায়েমা না হলে তাতে যাকাত
ওয়াজিব হয় না। সায়েমা সেই পশুকে বলা হয়, যা বছরের পূর্ণ সময় বা
বছরের অধিকাংশ সময় মাঠে-ঘাটে চরে বেড়ায় ও তৃণ-লতা খেয়ে বড়
হয়। কিন্তু বছরের কিছু সময় বা অর্ধেক সময় চরে খেলে তাতে যাকাত
আবশ্যক নয়। অবশ্য যদি উহা ব্যবসার জন্য হয়ে থাকে, তখন তার
বিধান ভিন্ন। ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে যাকাত বের করতে হবে। বছর
পূর্ণ হলে মূল্য নির্ধারণ করে ২.৫% (আড়াই শতাংশ) হারে যাকাত
বের করবে।
বাড়ী-ঘরের আশেপাশে ফলদার বৃক্ষের ফলের যাকাত।
প্রশ্ন: (২৬২) তিন বছর আগে আমি বাড়ী ক্রয় করেছি। (আল্ হামদু
লিল্লাহ্) বাড়ীর সীমানার মধ্যে তিনটি খেজুর গাছ আছে। প্রত্যেক
গাছে প্রচুর পরিমাণে খেজুর পাওয়া যায়। এ খেজুরে কি যাকাত দিতে
হবে? যাকাত দেয়া ওয়াজিব হয়ে থাকলে তো এ সম্পর্কে অধিকাংশ
মানুষই অজ্ঞ।
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে: ১) খেজুরগুলো নেসাব পরিমাণ হল কি না তা
জানার উপায় কি? আমি তো বিভিন্ন সময় খেজুর পেড়ে থাকি?
২) কিভাবে যাকাতের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে? প্রত্যেক প্রকার
খেজুরের যাকাত কি আলাদাভাবে বের করতে হবে? নাকি সবগুলো
একত্রিত করে যে কোন এক প্রকার থেকে যাকাত দিলেই চলবে?
৩) খেজুর থেকে যাকাত না দিয়ে এর বিনিময় মূল্য দিলে চলবে কি?
৪) বিগত বছরগুলোতে তো যাকাত বের করিনি। এখন আমি কি করব?
উত্তর: বাড়ির আশে পাশে খেজুর গাছে প্রাপ্ত খেজুর থেকে যে
যাকাত আবশ্যক হতে পারে এ ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ জ্ঞান রাখে
না প্রশ্নকারীর একথা সত্য ও সঠিক। কারো বাড়িতে সাতটি কারো
দশটি কারো কম বা বেশী সংখ্যার গাছ থাকে। এগুলোর ফল নেসাব
পরিমাণও হয়ে যায়। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না যে এতেও
যাকাত দিতে হবে। তাদের ধারণা যে, বাগানের খেজুরেই শুধু যাকাত
দেয়া লাগবে। অথচ খেজুর বৃক্ষ বাগানে হোক বা বাড়ীতে হোক,
উৎপাদিত ফসল নেসাব পরিমাণ হলেই তাতে যাকাত দিতে হবে। এই
ভিত্তিতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন মানুষ অনুমান করবে, এ
গাছগুলোতে যাকাতের নেসাব পরিমাণ খেজুর আছে কি না? যদি
নেসাব পরিমাণ হয় তবে কিভাবে যাকাত দিবে সে তো বিভিন্ন সময়
ফল পেড়ে খেয়ে থাকে?
আমি মনে করি, এ অবস্থায় খেজুরের মূল্য নির্ধারণ করবে এবং পূর্ণ
মূল্যের এক বিশমাংশ যাকাত হিসেবে বের করবে। কেননা এ পদ্ধতি
মালিকের জন্য যেমন সহজ তেমনি অভাবীদের জন্যও উপকারী। এতে
যাকতের পরিমাণ হবে ৫% (শতকরা পাঁচ) টাকা। কেননা ইহা হচ্ছে
ফসলের যাকাত ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত নয়। কিন্তু অন্যান্য সম্পদ
যদি হয় যেমন্ত স্বর্ণ-রৌপ্য, টাকা-পয়সা, তবে তাতে যাকাতের
পরিমাণ হচ্ছে ২.৫% (শতকরা আড়াই) টাকা।
আর অজ্ঞতা বশত: বিগত যে কয় বছরের যাকাত আদায় করেনি, তার
জন্য অনুমান করে সর্বমোট একটা পরিমাণ নির্ধারণ করবে, তারপর
তার যাকাত এখনই আদায় করে দিবে। আর যাকাত আদায় করতে এই
দেরীর কারণে তার কোন গুনাহ্ হবে না। কেননা সে ছিল অজ্ঞ। কিন্তু
বিগত বছরগুলোর যাকাত অবশ্যই আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন: (৩৬৩) স্বর্ণ ও রৌপ্যের যাকাতের নেসাব কি? আর
কিলোগ্রাম হিসেবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর
ছা’ এর পরিমাণ কত?
উত্তর: স্বর্ণের নেছাব হচ্ছে বিশ মিসকাল তথা ৮৫ পঁচাশি গ্রাম।
আর রৌপ্যের নেছাব হচ্ছে ১৪০ (একশ চল্লিশ) মিসকাল তথা সৌদি
আরবের রৌপ্যের দিরহাম অনুযায়ী ৫৬ রিয়াল। অর্থাৎ ৫৯৫ গ্রাম।
আর কিলোগ্রাম হিসেবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এর ছা’ এর পরিমাণ হচ্ছে, দু’কিলো চল্লিশ গ্রাম (২.৪০ কেজি) পাকা
পুষ্ট গম।
প্রশ্ন: (৩৬৪) মেয়েদেরকে দেয়া স্বর্ণ একত্রিত করলে নেসাব
পরিমাণ হয়। একত্রিত না করলে নেসাব হয় না। এ অবস্থায় করণীয়
কি?
উত্তর: কোন মানুষ যদি গয়নাগুলো তার মেয়েদেরকে ধার স্বরূপ
শুধুমাত্র পরিধান করার জন্য দিয়ে থাকে, তবে সেই তার মালিক।
সবগুলো একত্রিত করে যদি নেসাব পরিমাণ হয় তবে যাকাত প্রদান
করবে। কিন্তু যদি তাদেরকে সেগুলো দান স্বরূপ প্রদান করে থাকে
অর্থাৎ মেয়েরাই সেগুলোর মালিক, তবে গয়নাগুলো একত্রিত করা
আবশ্যক নয়। কেননা প্রত্যেকেই আলাদাভাবে স্বর্ণগুলোর মালিক।
অতএব তাদের একজনের স্বর্ণ যদি নেসাব পরিমাণ হয়, তবেই যাকাত
প্রদান করবে। অন্যথায় নয়।
প্রশ্ন: (৩৬৫) নিজের প্রদত্ত যাকাত থেকে গ্রহীতা যদি উপহার
স্বরূপ কিছু প্রদান করে, উহা কি গ্রহণ করা যাবে?
উত্তর: যাকাতের হকদার কোন ব্যক্তি যদি প্রাপ্ত যাকাত থেকে
প্রদানকারীকে কিছু হাদিয়া বা উপহার স্বরূপ দেয়, তবে উহা নিতে
কোন বাধা নেই। কিন্তু তাদের মাঝে যদি পূর্ব থেকে কোন গোপন
সমঝোতা হয়ে থাকে তবে তা হারাম। এই কারণে তার উক্ত হাদিয়া বা
উপহার গ্রহণ না করাই উত্তম।
প্রশ্ন: (৩৬৬) সম্পদের যাকাতের পরিবর্তে কাপড় ইত্যাদি প্রদান
করা কি জায়েজ হবে?
উত্তর: না, তা জায়েজ হবে না।
প্রশ্ন: (৩৬৭) স্বর্ণের সাথে মূল্যবান ধাতু হীরা প্রভৃতি থাকলে
কিভাবে স্বর্ণের যাকাত দিবে?
উত্তর: অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ উহা নির্ধারণ করবে। স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা
স্বর্ণকারের কাছে গিয়ে পরিমাণ জেনে নিবে। এখানে যে পরিমাণ
স্বর্ণ আছে তা নেসাব পরিমাণ হয় কি না? নেসাব পরিমাণ না হলে
যাকাত নেই। তবে তার কাছে অন্য স্বর্ণ থাকলে তা দ্বারা নেসাব
পূর্ণ করে হিরা প্রভৃতি মিশ্রিত স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করে তা
থেকে ২.৫% (আড়াই শতাংশ) হারে যাকাত আদায় করবে।
প্রশ্ন: (৩৬৮) যাকাতের অর্থ দ্বারা মসজিদ নির্মাণ করার বিধান কি?
ফকীর বা অভাবী কাকে বলে?
উত্তর: যাকাতের জন্য আল্লাহ তা’আলা যে আট শ্রেণীর কথা
কুরআনে উল্লেখ করেছেন, তা ছাড়া অন্য কোন খাতে যাকাত প্রদান
করা জায়েজ নয়। কেননা আল্লাহ তা’আলা আয়াতে ﺇﻧﻤﺎ অব্যয় দ্বারা
যাকাত প্রদানের খাতকে আট শ্রেণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছেন।
তিনি বলেন,
‏] ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺎﺕُ ﻟِﻠْﻔُﻘَﺮَﺍﺀِ ﻭَﺍﻟْﻤَﺴَﺎﻛِﻴﻦِ ﻭَﺍﻟْﻌَﺎﻣِﻠِﻴﻦَ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆَﻟَّﻔَﺔِ ﻗُﻠُﻮﺑُﻬُﻢْ ﻭَﻓِﻲ ﺍﻟﺮِّﻗَﺎﺏِ ﻭَﺍﻟْﻐَﺎﺭِﻣِﻴﻦَ
ﻭَﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍِﺑْﻦِ ﺍﻟﺴَّﺒِﻴﻞِ ﻓَﺮِﻳﻀَﺔً ﻣِﻦْ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠِﻴﻢٌ ﺣَﻜِﻴﻢٌ ‏[
“যাকাত তো হচ্ছে শুধুমাত্র গরীবদের এবং অভাব গ্রস্থদের আর এই
যাকাত আদায়ের জন্য নিযুক্ত কর্মচারীদের এবং ইসলামের প্রতি
তাদের (কাফেরদের) হৃদয় আকৃষ্ট করতে, ঋণ পরিশোধে, আল্লাহর পথে
জিহাদে, আর মুসাফিরদের সাহায্যে। এ বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে
নির্ধারিত। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী অতি প্রজ্ঞাময়। (সূরা তওবাঃ
৬০)
সুতরাং তা মসজিদ নির্মাণের কাজে বা জ্ঞানার্জনের কাজে খরচ
করা জায়েজ হবে না। আর নফল সদকা সমূহের ক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে
যেখানে বেশী উপকার পাওয়া যাবে সেখানে প্রদান করা।
ফকীরের সংজ্ঞা হচ্ছে: সস্থান ও কাল ভেদে যার কাছে পূর্ণ এক
বছরের নিজের ও পরিবারের খরচ পরিমাণ অর্থ না থাকবে তাকে বলা
হয় ফকীর। স্থান-কাল ভেদে এজন্য বলা হয়েছে, হয়তো কোন কালে
বা কোন সস্থানে এক হাজার রিয়ালের অধিকারীকে ধনী বলা হয়।
আবার কোন কালে বা কোন সস্থানে এটা কোন সম্পদই নয়। কেননা
সে সময় বা সস্থানে জীবন ধারণের উপকরণ খুবই চড়া মূল্যের।
প্রশ্ন: (৩৬৯) ভাড়া বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত গাড়ীতে কি যাকাত
আবশ্যক?
উত্তর: ভাড়ার কাজে মানুষ যে গাড়ী ব্যবহার করে অথবা নিজের
ব্যক্তিগত কাজে যে গাড়ী ব্যবহার করা হয় তার কোনটাতেই যাকাত
নেই। তবে প্রাপ্ত ভাড়া যদি নেসাব পরিমাণ হয় বা তা অন্য অর্থের
সাথে মিলিত করে তা নেসাব পরিমাণ পৌঁছে এবং এক বছর
অতিক্রান্ত হয় তবে তাতে যাকাত দিতে হবে। অনুরূপভাবে ভাড়ায়
ব্যবহৃত জমি বা ভূমিতে যাকাত নেই। তার প্রাপ্ত ভাড়া থেকে
যাকাত দিতে হবে।
প্রশ্ন: (৩৭০) ভাড়া দেয়া হয়েছে এমন বাড়ীর যাকাত দেয়ার বিধান
কি?
উত্তর: ভাড়া দেয়া হয়েছে এমন বাড়ী যদি ভাড়ার জন্যই নির্মাণ করা
হয়ে থাকে তবে বাড়ীর মূল্যে কোন যাকাত নেই। তবে বাড়ী থেকে
প্রাপ্ত ভাড়ার যাকাত দিতে হবে, যদি ভাড়া দেয়ার দিন থেকে
প্রাপ্ত অর্থের উপর বছর পূর্ণ হয়। ভাড়ার চুক্তি নামা স্বাক্ষর করার
দিন থেকে যদি বছর পূর্ণ না হয় তবে তাতে যাকাত নেই। যেমন বছরে
১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা প্রদানের চুক্তিতে ঘর ভাড়া দেয়া হল।
চুক্তির শুরুতে পাঁচ হাজার টাকা গ্রহণ করে উহা খরচ হয়ে গেল।
অবশিষ্ট পাঁচ হাজার টাকা বছরের মধ্যবর্তী সময়ে গ্রহণ করে উহাও
বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই খরচ হয়ে গেল, তবে এক বছরে প্রাপ্ত দশ
হাজার টাকার এই ভাড়ার মধ্যে কোন যাকাত দিতে হবেনা। কেননা
এই অর্থে বছর পূর্ণ হয়নি।
কিন্তু বাড়ীটি যদি ব্যবসার জন্য নির্মাণ করে মূল্য বৃদ্ধি বা লাভের
অপেক্ষায় থাকে এবং বিক্রি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ভাড়া আদায় করে,
তবে উক্ত বাড়ীর মূল্যে যাকাত দিতে হবে এবং ভাড়ারও যাকাত
দিতে হবে যখন বছর পূর্ণ হবে।। কেননা উহা ব্যবসার জন্য নির্মাণ
করা হয়েছে। নিজ মালিকানায় থেকে যাওয়া বা তা থেকে উপকৃত
হওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। আর এমন প্রত্যেক বস্তু যা ব্যবসা বা
উপার্জনের উদ্দেশ্যে প্রস্তত করা হয় তাতেই যাকাত রয়েছে। কেননা
নবী (সা:) বলেন, “প্রত্যেকটি কর্ম নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর
মানুষ যা নিয়ত করে তাই রয়েছে তার জন্য।" [4]
এই ব্যক্তির নিকট উপার্জনের জন্য যে সম্পদ রয়েছে। তার লক্ষ্য তো
বস্তুটির মূল্যের প্রতি- মূল বস্তু নয়। আর উহার মূল্য হচ্ছে দিরহাম বা
টাকা বা নগদ অর্থ আর নগদ অর্থে বা টাকা-পয়সায় যাকাত ওয়াজিব।
অতএব যে গৃহ ব্যবসার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বছর শেষে তার মূল্য
নির্ধারণ করে তাতে এবং উহা যদি ভাড়ায় থাকে তবে ভাড়ার চুক্তির
দিন থেকে বছর পূর্ণ হলে তাতেও যাকাত দিতে হবে।
বসবাসের উদ্দেশ্যে জমিন খরিদ করার পর উহা দ্বারা ব্যবসা করার
ইচ্ছা করলে তার যাকাত।
প্রশ্ন: (৩৭১) জনৈক ব্যক্তি বসবাসের উদ্দেশ্যে একটি জমিন খরিদ
করেছে। তিন বছর পর সে উহা দ্বারা ব্যবসা করার ইচ্ছা করল। এখন
উক্ত তিন বছরের কি যাকাত দিতে হবে?
উত্তর: বিগত বছরগুলোর জন্য কোন যাকাত ওয়াজিব হবেনা। কেননা
সে তো বসবাসের জন্য উহা খরিদ করেছিল। কিন্তু ব্যবসা ও
উপার্জনের নিয়ত করার সময় থেকেই বছরের হিসাব শুরু করতে হবে।
যখন বছর পূর্ণ হবে তখনই তাতে যাকাত আবশ্যক হবে।
প্রশ্ন: (৩৭২) রামাযানের প্রথম দশকে যাকাতুল ফিতর (ফিতরা)
আদায় করার বিধান কি?
উত্তর: যাকাতুল ফিতর শব্দটির নামকরণ করা হয়েছে রোযা ভঙ্গকে
কেন্দ্র করে। রোযা ভঙ্গ বা শেষ করার কারণেই উক্ত যাকাত প্রদান
করা আবশ্যক। সুতরাং উক্ত নির্দিষ্ট কারণের সাথেই সংশ্লিষ্ট
রাখতে হবে, অগ্রিম করা চলবে না। একারণে ফিতরা বের করার
সর্বোত্তম সময় হচ্ছে ঈদের দিন নামাযের পূর্বে। কিন্তু ঈদের একদিন
বা দু’দিন আগে তা আদায় করা জায়েজ। কেননা এতে প্রদানকারী ও
গ্রহণকারীর জন্য সহজতা রয়েছে। কিন্তু এরও আগে বের করার
ব্যাপারে বিদ্বানদের প্রাধান্য যোগ্য মত হচ্ছে তা জায়েজ নয়। এই
ভিত্তিতে ফিতরা আদায় করার সময় দু’টি: ১) জায়েজ বা বৈধ সময়।
তা হচ্ছে ঈদের একদিন বা দু’দিন পূর্বে। ২) ফযীলতপূর্ণ উত্তম সময়।
তা হচ্ছে ঈদের দিন – ঈদের নামাযের পূর্বে। কিন্তু নামাযের পর
পর্যন্ত দেরী করে আদায় করা হারাম। ফিতরা হিসেবে কবুল হবেনা।
ইবনে আব্বাসের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
ﻣَﻦْ ﺃَﺩَّﺍﻫَﺎ ﻗَﺒْﻞَ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻓَﻬِﻲَ ﺯَﻛَﺎﺓٌ ﻣَﻘْﺒُﻮﻟَﺔٌ ﻭَﻣَﻦْ ﺃَﺩَّﺍﻫَﺎ ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻓَﻬِﻲَ ﺻَﺪَﻗَﺔٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼَّﺪَﻗَﺎﺕِ
“নামাযের পূর্বে যে উহা আদায় করে তার যাকাত গ্রহণযোগ্য। আর
যে ব্যক্তি নামাযের পর আদায় করবে তার জন্য উহা একটি সাধারণ
সাদ্কা বা যাকাত হিসেবে গণ্য হবে।” [5]
তবে কোন লোক যদি জঙ্গল বা মরুভূমি বা এ ধরণের জন মানবহীন
কোন সস্থানে থাকার কারণে ঈদের দিন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে এবং
ঈদের নামায শেষ হওয়ার পর সে সম্পর্কে অবগত হয়, তবে ঈদের পর
ফিতরা আদায় করলেও তার কোন অসুবিধা হবে না।
প্রশ্ন: (৩৭৩) সাদ্কার নিয়তে বেশী করে ফিতরা আদায় করা জায়েজ
হবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, বেশী করে ফিতরা আদায় করা জায়েজ। ফিতরার
অতিরিক্ত বস্তু সাদ্কার নিয়তে প্রদান করবে। যেমন আজকাল বহু
লোক এরূপ করে থাকে। মনে করুন একজন লোক দশ জনের ফিতরা
আদায় করবে। এই উদ্দেশ্যে সে এক বস্থা চাউল খরিদ করে যাতে দশ
জনের অধিক ব্যক্তির ফিতরা আদায় করা যাবে। অতঃপর উহা
নিজের পক্ষ থেকে এবং নিজ পরিবারের পক্ষ থেকে আদায় করে। এটা
জায়েজ যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ বা তার
চাইতে বেশী চাউল আছে। বস্থার মধ্যে নির্দিষ্ট ফিতরার পরিমাপ
যদি জানা যায় তবে উহা আদায় করাতে কোন দোষ নেই।
চাউল দ্বারা ফিতরা আদায় করা।
প্রশ্ন: (৩৭৪) কতিপয় বিদ্বান মনে করেন, যে সমস্থ বস্তু দ্বারা
ফিতরা দেয়ার কথা হাদিছে বর্ণিত হয়েছে, তা যেহেতু বর্তমানে
পাওয়া যায়, তাই চাউল দ্বারা ফিতরা দেয়া বিধিসম্মত নয়। এ
সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই?
উত্তর: একদল আলেম বলেন, হাদিসে উল্লেখিত পাঁচ প্রকার বস্তু:
গম, খেজুর, যব, কিসমিস এবং পনীর- এগুলো যদি থাকে তবে অন্য বস্তু
দ্বারা ফিতরা আদায় করা জায়েজ হবে না।
অন্য একটি মত হচ্ছে উল্লেখিত বস্তু এবং অন্য যে কোন বস্তু এমনকি
টাকা-পয়সা দ্বারাও ফিতরা আদায় করা বৈধ। পরস্পর বিরোধী দু’টি
মত। বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে:- মানুষের সাধারণ খাদ্য থেকে ফিতরা আদায়
করা বৈধ। কেননা সহীহ্ বুখারীতে আবু সাঈদ খুদরী (রা:) থেকে বর্ণিত
হয়েছে। তিনি বলেন,
ﻛُﻨَّﺎ ﻧُﺨْﺮِﺝُ ﻓِﻲ ﻋَﻬْﺪِ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺯﻛﺎﺓ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﻃَﻌَﺎﻡٍ ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ
ﻣِﻦْ ﺷَﻌِﻴﺮٍ ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺗَﻤْﺮٍ ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﻗِﻂٍ ﺃَﻭْ ﺻَﺎﻋًﺎ ﻣِﻦْ ﺯَﺑِﻴﺐٍ
“আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে
এক ছা’ পরিমাণ খাদ্য ফিতরা হিসেবে বের করতাম। খেজুর, যব,
কিসমিস ও পনীর।” এ হাদিসে গমের কথা উল্লেখ নেই। তাছাড়া
যাকাতুল ফিতরে গম দেয়া যাবে এরকম সুস্পষ্ট ও বিশুদ্ধ কোন হাদীস
আমার জানা নেই। কিন্তু তারপরও নিঃসন্দেহে গম দ্বারা ফিতরা
আদায় বৈধ।
আবদুল্লাহ্ বিন আব্বাস (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:
ﻓَﺮَﺽَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺯَﻛَﺎﺓَ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ ﻃُﻬْﺮَﺓً ﻟِﻠﺼَّﺎﺋِﻢِ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻐْﻮِ ﻭَﺍﻟﺮَّﻓَﺚِ ﻭَﻃُﻌْﻤَﺔً
ﻟِﻠْﻤَﺴَﺎﻛِﻴﻦِ
“রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাকাতুল ফিতর
ফরয করেছেন রোজাদারকে অনর্থক কথা ও অশ্লীলতা থেকে পবিত্র
করার জন্য ও মিসকিনদের জন্য খাদ্য স্বরূপ।” অতএব মানুষের প্রচলিত
খাদ্য থেকে ফিতরা বের করাই যথেষ্ট। যদিও উহা ফিকাহ্বিদদের
উক্তিতে উল্লেখিত পাঁচ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত না হয়। কেননা এই
প্রকার সমূহ যেমন পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে- চারটি ছিল। যা নবী
(সা:) এর যুগে মানুষের সাধারণ খাদ্য হিসেবে প্রচলিত ছিল। অতএব
চাউল দ্বারা ফিতরা আদায় করা জায়েজ। বরং আমি মনে করি
বর্তমান যুগে ফিতরা হিসেবে চাউলই উত্তম। কেননা উহা সহজলভ্য ও
মানুষের অধিক পছন্দনীয় বস্তু। তাছাড়া বিষয়টি স্থানভেদে বিভিন্ন
রকম হতে পারে। হতে পারে গ্রামাঞ্চলে কোন কোন গোষ্ঠীর নিকট
খেজুর অধিক প্রিয় খাদ্য। তারা খেজুর দ্বারা ফিতরা আদায় করবে।
কোন এলাকায় কিসমিস, কোন এলাকায় পনীর প্রিয় খাদ্য হতে পারে
তারা তা দিয়েই ফিতরা আদায় করবে। প্রত্যেক এলাকা ও
সম্প্রদায়ের জন্য সেটাই উত্তম যেটাতে রয়েছে তাদের জন্য অধিক
উপকার।
মৃত ব্যক্তির ওছীয়তকৃত সম্পদে এবং ইয়াতীমের সম্পদে যাকাত
প্রশ্ন: (৩৭৫) কারো নিকট যদি মৃত ব্যক্তির ওছীয়তকৃত সম্পদের এক
তৃতীয়াংশ থাকে এবং ইয়াতীমের কিছু সম্পদ থাকে, তাতে কি যাকাত
দিতে হবে?
উত্তর: মৃত ব্যক্তির ছেড়ে যাওয়া সম্পদের উক্ত এক তৃতীয়াংশে
কোন যাকাত নেই। কেননা তার কোন মালিক নেই। উহা তো অসীয়ত
অনুযায়ী জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু ইয়াতীমের
অর্থ যদি নেসাব পরিমাণ হয় এবং বছর পূর্ণ হয় তবে তাতে য

No comments

Powered by Blogger.