Header Ads

bangla new year বাংলা নতুন বছরের ইতিহাস

bangla new year new year
ইতিহাসটা পড়তে হলে আগে একটা পয়েন্ট আপনার
মাথায় রাখতে হবে! "১৯১৭ সালে প্রথম মহাযুদ্ধে
ব্রিটিশদের বিজয় এবং সাথে সাথে হিন্দু ব্রাক্ষ্মন
কর্তৃক জুড়ে দেওয়া 'মুসলমান ধ্বংশ হোক' এই চাওয়া
পুরনার্থে হিন্দুদের দ্বারা বৈশাখের প্রথম তারিখে
মুর্তি পূজা এবং ভগবান আর্চণা করার মাধ্যমেই
বর্তমান পহেলা বৈশাখ পালন শুরু হয়েছিলো" চাইলে
ইতিহাসটা 'উইকিপিডিয়া' থেকে কপি করেই দিতে
পারতাম যদি নিছক একটা স্টাটাস লেখার খেয়ালে
ইতিহাসটা লিখতাম! কিন্তু উইকিতেও ইতিহাসটা
বিকৃত করেই পাবলিষ্ট করা আছে তাই দির্ঘ
অনুসন্ধানে মূল ইতিহাসটা কি-প্যাড থেকে লিখণী
আকারে প্রকাশ করলাম সত্য ইতিহাসটা প্রকাশের
স্বার্থে। আশা করি সবাই বেশ উপকৃত হবেন।। ---
ইতিহাস :- পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম তারিখ
তথা বর্ষশুরু! প্রচিণ আমল থেকেই এই দিনটিতে
নির্দিষ্ট একটি কাজ করা হতো.. আগের বছরের সকল
দেনা-পাওনা পরিশোধের কাজ! এছাড়া কোন
প্রকারের কোন উদযাপন ১৯১৭ সালের আগ পর্যন্ত
ইতিহাসে পাওয়া যায়না! পহেলা বৈশাখের
সাংস্কৃতি যেখান থেকে এসেছে সেটা সংক্ষেপ
করলে মোটামুটি এমন হয়* হিন্দু সৌর পঞ্জিকা
অনুসারে বাংলা বারটি মাসের প্রথম তারিখে
কৃষিকাজের জন্য নির্ধারিত রাখা হতো অর্থাত্
প্রতি মাসের প্রথম তারিখে সারা মাসের কৃষি
উপকরণ বিকিকিনির হাট বসতো.. তখন আসাম, বঙ্গ,
কেরালা, মনিপুর, নেপাল, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব,
তামিল নাড়ু এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতির অংশ হিসেব
করে ঐ দিন যায়গায় যায়গায় হাট বসতো এবং কৃষি
উপকরণ বিকিকিনি হতো! এরপর ভারতবর্ষে মুঘল
সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী তারিখ
অনুসারে খাজনা বা ট্যাক্স আদায় করতো কিন্তু
হিজরী তারিখ ফসলী জমির সাথে মিলতো না বলে
অসময়ে কৃষকদের খাজনা দিতে হতো! তাই কৃষকরা
রাজার কাছে দাবি করলো তাদের ট্যাক্স আদায়
আগের সৌর পঞ্জিকা অনুসারে করার জন্য।
তখনকার সম্রাট ছিলেন সম্রাট আকবর এবং তিনিও
এই প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে হিন্দুদের সৌর
পঞ্জিকাকে সংস্কার করার আদেশ দেন। সম্রাটের
আদেশ মোতাবেক তত্কালীন বাংলার বিখ্যাত
জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেহউল্লাহ সিরাজী সৌর
পঞ্জিকা ও আরবী পঞ্জিকা অনুসারে নতুন একটা
পঞ্জিকা বিনির্মান করেন। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০
ই মার্চ বা ১১ ই মার্চ থেকে এই সন গননা শুরু হয় এবং
জ্যোতির্বিজ্ঞানের শাস্ত্র অনুযায়ী পেছন থেকে
যতটুকু পর্যন্ত নিরঙ্কুশ সৌর তারিখ পাওয়া যায়
সেগুলোকে এই নতুন পঞ্জিকার প্রথম তারিখ
হিসেবে মনোনয়ন করা হয়। এবং পরবর্তিতে
আকবরের সিংহাসন আরোহনর তারিখ ৫ই নভেম্বর,
১৫৫৬ সাল থেকে কার্যকরী পদ্ধতিতে এই সাল গননা
শুরু হয়। তখন এই সালের নাম ছিলো ফসলি সাল পরে
বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষরুপে পরিচিতি পায়। ---
পহেলা বৈশাখ পালন: - নির্দিষ্ট সন তথা সাল হয়ে
যাওয়াতে তখন প্রতিমাসে কৃষির হাট বসার নিয়ম
রহিত হয়ে যায় এবং রাজা কর্তৃক শাসনব্যাবস্থা
থাকায় বছরের একদিন খাজনা আদায় করার নিয়ম
চালু হয়। রাজা তাই কৃষকদের সাথে আলোচনা করে
খাজনা আদায়ের দিন ঠিক করলের 'দুই দিন খাজনা
দিবস' নামে! অর্থাত্ চৈত্র মাসের ৩০ তারিখ তথা
শেষ দিনে প্রজারা খাজনা এক যায়গায় করবে এবং
বৈশাখ মাসের প্রথম তারিখ পহেলা বৈশাখে সেগুলো
রাজ কোষাগারে জমা করবে! এবং রাজার নির্দেশ
ছিলো পহেলা বৈশাখ তারিখে খাজনা আদায়ের
খুশিতে প্রত্যেক ভূমির মালিকরা কৃষকদের এবং রাজ
কোষাগার থেকে ভূমি মালিকদের রাজ দরবার থেকে
মিষ্টান্ন এবং মাছ-মাংশের আপ্যায়ন করার। এই
উদ্দেশ্যেই কৃষক এবং ভূমি মালিকদের মাঝে এক
উত্সবের আমেজ বিরাজ করতো। কোথাও কোন
ইতিহাসে ক্ষুনাক্ষরেও পাওয়া যায় না পান্তা-ইলিশ,
মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে বিকৃত কার্জ-কলাপের
কথা! এরপর ধিরে ধিরে খাজনা প্রথা রহিত হয়ে
যাওয়ার পর ব্যাবসায়ীরা দিনটিকে তাদের পাওনা
পরিশোধ তথা হালখাতা আদায়ের দিন হিসেবে
নির্ধারিত করলো এবং ক্রেতাদেরকে এই দিনে
আপ্যায়নের ব্যাবস্থা করতো যেই প্রথাটি এখনও
চালু আছে। ---বর্তমানে বিকৃত পহেলা বৈশাখের
ইতিহাস:- ১৯১৭ সালের দিকে যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
চলছিলো তখনকার ভারতবর্ষের হিন্দু ব্রাক্ষ্মনরা
সাধারন হিন্দুদের মধ্যে এই কথা ছড়িয়ে দিলো যে
মুসলমানরা হিন্দুদের পুরনো সৌরসন ধ্বংশ করে
তাদের চাহিদা মত বাংলা সন তৈরি করেছে এবং
তারা চাচ্ছিলো সেই সৌরসন আবার প্রণয়ন করতে
কিন্তু দির্ঘ ৪০০/৪৫০ বছর ধরে সেই তারিখ গননা না
হওয়াতে পুনরায় সেই সন প্রনয়ন করাটা সাধ্য হয়ে
উঠেনি তাই হিন্দু ব্রাক্ষ্মনরা সাধারন হিন্দুদের
সঙ্গে নিয়ে পহেলা বৈশাখ তারিখ ঠিক করলো
যেদিন বিশ্বযুদ্ধে বৃটিশদের জয় কামনা এবং তাদের
ভাষ্যমতে হিন্দুদের সন বিকৃত করার দায়ে
'মুসলমানদের ধ্বংশ চেয়ে' মুর্তি-পূজা হোম কীর্তন
এবং ভগবান আর্চণার সময় নির্ধারিত করলো এবং
পহেলা বৈশাখ তারিখে বেশ ঘটা করে এই আয়োজন
সম্পন্য করলো! এবং ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত পহেলা
বৈশাখ তারিখে আর কোন অনুষ্ঠান পালিত হয়নি!
১৯৩৮ সাল থেকে পুনরায় ভারতবর্ষের মুসলীমদের
বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিরোধীতার সূত্র ধরে পালিত হয়
একই কর্মকান্ড। ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে যাওয়ার পর
আবার বেশ কিছুদিন এই উদযাপন বন্ধ থাকে।
পরবর্তিতে ১৯৬৭ সাল থেকে পুনরায় আবার
যথারীতি পহেলা বৈশাখ পালিত হয় এবং যেটা
আজও পালিত হয়ে আসছে! ---
মঙ্গল শোভাযাত্রার ইতিহাস: - ১৯১৭ সালে যেদিন
পূজা আর্চণা করা হয়েছিলো সেদিন মুসলমানদেরকে
বিশ্বের ভয়ংকর প্রানী ডাইনোসরের সাথে তুলনা
করে ডাইনোসরের একটা প্রতিকৃতি বানানো হয় এবং
যেটাকে সম্মিলিত ভাবে কাঁধে করে নিয়ে গঙ্গা
পাড়ে পোড়ানো হয! যতদুর জানা যায় এখান থেকেই
মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রচলন হয়েছে! যেটা
পরবর্তিতে খন্ড খন্ড ভাবে পালিত হয়ে আসছিলো
এবং পরবর্তিতে ১৯৮৯ সাল থেকে নিয়মিত চলে
আসছে এই শোভাযাত্রা!! যেখানে প্রধান আকর্ষণ
থাকে বিভিন্ন প্রানীর মুখোশ লাগিয়ে ঘুরে ফেরা।
---
নাগরদোলার ইতিহাস: - এটাও ১৯১৭ সাল থেকেই
প্রথম চালু হয়েছে বলে ধারনা করা হয়! মুসলমানদের
আদি পিতা ইব্রাহিম আঃ কে নমরুদ কর্তৃক আগুনে
নিক্ষেপ করা হয়েছিলো এমন চরকি তথা
নাগরদোলার সাহায্যে। তখনকার হিন্দুরা চরকি তথা
নাগরদোলা বানিয়ে মুসলমানদের প্রতিকৃতি গঙ্গায়
নিক্ষেপ করেছিলো এবং এখান থেকেই নাগরদোলার
প্রচলন!! সর্বপরী পহেলা বৈশাখের সাথে সংশ্লীষ্ট
সকল কর্মসূচীই মুসলমানদের বিরুদ্ধাচরন করনার্থে
প্রথম চালু হয়েছিলো! কিন্তু আফসোস এবং
পরিতাপের বিষয় বাঙ্গালী হুজুগে মুসলমানরা সেই
কর্মসূচীগুলোকেই স্বতস্ফূর্তভাবে পালন করে আসছে
তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে!! ---
সময় এসেছে প্রতিকারের: - যুগ এখন ডেপেলপ!
ইতিহাস চাঁপিয়ে রাখার সাধ্য কারোর নাই! তাই এই
সঠিক ইতিহাস মুসলমানদের নতুন এবং আগামী
প্রজন্মকে জানিয়ে দিতে হবে এবং কেবল এই
হিন্দুয়ানীই নয় বরং মুসলীম বিদ্ধেষী পহেলা
বৈশাখের বিকৃত কর্মসূচী পালন থেকে বিরত রাখতে
হবে। পালন যদি করতেই হয় বৈশাখের মুল কর্মসূচী
তথা পেছনের বছরের ধার-দেনা পরিশোধ করে
পরিচ্ছন্ন একটি নতুন বছর পার করার প্রত্যয় নিয়ে
বছরটি শুরু করতে হবে এই উপলব্দী জনমনে তৈরি করে
দিতে হবে।।।
জয় হোক ইসলামের!
জয় হোক মাতৃভাষার!!

No comments

Powered by Blogger.