Header Ads

আল্লাহ্‌র রাসূল (সা:) বলেন যে আল্লাহ বলেছেন: "আদমের সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য - একমাত্র সিয়াম (রোজা) ছাড়া; কেননা সেটি আমার জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব।" [বুখারী, মুসলিম, আহমাদ]এখানে দুটো ব্যাপার বোঝার রয়েছে।"কেননা সেটি আম

আল্লাহ্‌র রাসূল (সা:) বলেন যে আল্লাহ বলেছেন: "আদমের সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য - একমাত্র সিয়াম (রোজা) ছাড়া; কেননা সেটি আমার জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব।" [বুখারী, মুসলিম, আহমাদ]এখানে দুটো ব্যাপার বোঝার রয়েছে।"কেননা সেটি আমার জন্য" এবং "আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব" এই কথাদুটো দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে। দ্বিতীয়টি দিয়ে শুরু করা যাক।"আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব" এই কথার ব্যাখ্যায় আমি 'আলেমদের দুটো ব্যাখ্যা পেয়েছি। প্রথমত, রোজার প্রতিদানের কোনও ফিক্সড রেইঞ্জ নেই। অন্যান্য হাদীস থেকে এবং এই হাদীসটির আরেকটি ভাষ্য যা ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন - তা থেকে জানা যায় প্রতিটি সৎ বা ভালো কাজের জন্য আপনি কতটুকু উত্তম প্রতিদান পাবেন তার একটি সীমা ঠিক করা আছে। আপনার নিয়ত ও কাজের কোয়ালিটির ওপর নির্ভর করে আপনি কাজটির জন্য ন্যূনতম দশ গুণ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় সাতশ গুণ বেশি প্রতিদান পেতেপারেন। কিন্তু রোজার প্রতিদানের হিসাবটি আল্লাহ্‌ ওপ্‌ন এন্ডেড রেখেছেন। আল্লাহ্‌ বিশেষ ভাবে কোনও হিসেবের বালাই না রেখে আপনাকেআমাকে দেবেন রোজার জন্য। আল-জাব্বার আল-ওয়াদুদ যখন বেহিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তখন তার পরিমাণ কল্পনার দিগন্তের বহু বহু আলোকবর্ষ ছাড়িয়ে যাবার কথা। আলোকবর্ষ কথাটিও ব্যবহার করলাম শুধু কল্পনাকে একটু রেহাই দেবার সুবিধার্থেই, নতুবা আল্লাহ্‌র প্রতিদানকে ব্যাখ্যা করার সাধ্য রাখে কে?দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে রোজার ব্যাপারে অত্যন্ত সিরিয়াস হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। 'আলেমরা বলছেন বান্দার প্রতিটি পাপের জন্য তার ভালো কাজ থেকে পয়েন্ট কেটে রাখা হবে। সেই হাদীস আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন যেখানে প্রচুর 'ইবাদাত করা এক ব্যক্তির সব কাজ ধূলোয় মিশে গেছে তার যথেচ্ছা মানুষের হক মেরে দেয়ারদায়ে। তো 'আলেমদের বক্তব্য হোলো বান্দার পাপ বা অপরাধের জন্য তার সকল ভালো কাজের প্রতিদান কমতে থাকবে - কেবলমাত্র রোজা ব্যতীত! রোজা থেকে কোনও পয়েন্ট কাটা হবে না,আপনার পাপের বোঝা যতই হয়ে থাক। এই মতটিকে সমর্থন দিয়েছেন শায়খ সালেহ্‌ আল-'উসায়মীন তার রিয়াদুস-সালেহীনের ব্যাখ্যাগ্রন্থে। তাহলে রোজার গুরুত্ব কত - তা কি আর বোঝানোর কিছু বাকি থাকে?"কেননা সেটি (রোজা) আমার জন্য" এই কথা দিয়ে আল্লাহ্‌ কী বুঝাচ্ছেন? মূলত রোজা এত অনন্য একটি 'ইবাদাতের কাজ যে আল্লাহ্‌ এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একান্ত আপন করে নিয়েছেন। এটি এমন একটি কাজ যাতে ইখলাস বা আল্লাহ্‌র প্রতি একনিষ্ঠতা পূর্ণমাত্রায় বলবৎ থাকে। আপনি চাইলেই গোপনে রোজা ভেঙেনিতে পারেন, আল্লাহ্‌ ব্যতীত কাকপক্ষীও টের পাবে না। কিন্তু তা আপনি করছেন না। তাই একটি সফল রোজা যেন আল্লাহ্‌র সাথে বান্দার সম্পর্কের এক অজানা টেরিটরি যাতে আর কারও প্রবেশ নেই।ইমাম ইবনুল কায়্যিম আমাদের দেখিয়েছেন যে ধৈর্য বা সব্‌র তিন রকমের হয়ে থাকে। আর রোজা এমন এক 'ইবাদাতের কাজ যাতে এই তিনটি ধৈর্যেরই পরীক্ষা বান্দাকে দিতে হয়। আসুন এই তিনটি ধৈর্যের ধরণ জেনে শেষ করি।১. আল্লাহ্‌র আনুগত্য পোষণের ধৈর্য: আল্লাহ্‌র আনুগত্য দেখাতে ধৈর্যের প্রয়োজন। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে ধৈর্য লাগে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে ধৈর্য লাগে, ইসলামের পথে মানুষকে ডাকতে ধৈর্য লাগে, জিহাদ করতে ধৈর্য লাগে। একইভাবে রামাদান মাসে উপর্যুপরি রোজা রাখতেও ধৈর্য লাগে।২. হারাম কাজ থেকে দূরে থাকার ধৈর্য: বহু হারাম কাজ রয়েছে যার প্রতি মানুষের মন স্বাভাবিক আকর্ষণবোধ করে। রামাদান মাসে আমাদের খাদ্য, পানীয় ও স্ত্রী-সহবাস থেকে বিরত থাকতে হয় যা আদতে হালাল কাজ। এই সকল অতিপ্রিয় হালাল কাজ থেকে এক মাস একটি নির্দিষ্ট সময় বিরত থেকে আমরা নিজেদের হারাম কাজ না করার ব্যাপারে ধৈর্য রাখার শিক্ষা নিই। যদি আমরা আল্লাহ্‌র জন্য হালাল কাজ একমাস বন্ধ রাখতে পারি, নিশ্চয়ই আমরা তার জন্য হারাম কাজ বারো মাস বন্ধ রাখার জোর প্রচেষ্টা চালাতে পারব।৩. আল্লাহ্‌র নির্ধারিত ভাগ্য বা তাকদীরের ব্যাপারে ধৈর্য: আল্লাহ্‌ আমাদের ভাগ্যে যা রেখেছেন - সেটা ভালো হলে তো বটেই - মন্দ হলেও সেটি মেনে নেবার ধৈর্য রাখতে হয় বান্দাকে। রামাদান আমাদের সেই শিক্ষাও দেয়। আগে শীতকালে আরাম করে রোজা রাখতেন। এখনগ্রীষ্মকালের প্রলম্বিত বেলায় গরমের মাঝেও রাখবেন। শীতকাল ও গ্রীষ্মকাল সবই আল্লাহ্‌র তাকদীর।তাকদীরের ওপর ধৈর্য রাখার শিক্ষাও তাই আমরা পাচ্ছি।এবারের রামাদান থেকে আমরা সবরের শিক্ষা যেন নিয়ে বের হতে পারি সেই তাওফীক আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করি।

No comments

Powered by Blogger.